ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাক্ষাৎকার ]

ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংসের মিশনে নেমেছিল এস আলম

তাসলিমা আক্তার
প্রকাশিত: ১৮:২০, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংসের মিশনে নেমেছিল এস আলম
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ইসলামী ব্যাংকের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে পর্ষদে ইসলামিক স্কলার দরকার বলে মন্তব্য করেছেন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান, অর্থনীতিবিদ ও শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ। 

দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন নবনিযুক্ত আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক তাসলিমা আক্তার-

ইসলামী ব্যাংকগুলো কেন এস আলম গ্রুপের টার্গেটে ছিল?

Advertisement

আবু আহমেদ: এটা একটা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র। তা না হলে এস আলম শুধু ইসলামিক ব্যাংকগুলোকেই কেন বেছে নিল। এস আলম তো ইন্টারেস্ট বেইসড অন্য কোনো ব্যাংক নিতে পারত। এগুলো নেয়া সম্ভব ছিল না যদি না তারা সরকারের ওপর পর্যায় থেকে সাহায্য না পেত। উচ্চ পর্যায়ের সমর্থন নিয়ে তারা ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ফতুর করে দিয়েছে। এক পর্যায়ে তারা বলত, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে চলে না। ইসলামী ব্যাংক শেষ। এসব করে তারা ইসলামী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশে ফেল করানোর পাঁয়তারা করেছে। তারা চেয়েছিল ইসলামী ব্যাংক বলতে এদেশে কিছু থাকবে না। সুতরাং, আমার কাছে মনে হয় এটা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ।

ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আগে অনেক রেমিট্যান্স আসত, এটা কমে যাওয়ার কারণ কী? 

আবু আহমেদ: ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আইনের শাসন এবং নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করার কারণে গ্রাহকের আস্থার সংকট তৈরি হয়। দেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে তার ৫০ শতাংশের বেশি আসে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহক বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। দেশে ইসলামের প্রতি মানুষের দুর্বলতা রয়েছে। যারা ইসলামকে ভালোবাসে তারা মূলত ইসলামী ব্যাংকে রেমিট্যান্স পাঠাতে পছন্দ করেন। 

দেশের ব্যাংক খাতের দুরবস্থার কারণ কী?

আবু আহমেদ: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছু মাফিয়া গোষ্ঠী ঢুকেছে। মাফিয়া গোষ্ঠীগুলো বড় বড় ঋণ খেলাপি। এরা সব নিয়ে গেছে। সরকারের সমর্থনে প্রাইভেট সেক্টর, বিদ্যুৎ খাত, জ্বালানি খাতেও এরা ঢুকেছে। সরকারের পক্ষে না থাকলে প্রাইভেট সেক্টরে কেউ ব্যবসা করতে পারত না। বাংলাদেশ ব্যাংক আর কী নিয়ন্ত্রণ করবে। প্রকৃতপক্ষে ঋণ খেলাপিরাই বাংলাদেশ ব্যাংক চালিয়েছে। 

দেশে ডলার সংকটের কারণ মূলত কী?

আবু আহমেদ: দেশে যে পরিমাণ ডলার আসে তার চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। ডলার সংকটের মূল কারণ অর্থ পাচার। যা ঋণখেলাপি তারা অবৈধভাবে টাকা ইনকাম করছে। তারা আবার আয়ের বেশিরভাগ অংশই ডলার কনভার্ট করে পাচার করেছে।

ডলার সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া দরকার?

আবু আহমেদ: আমাদের ডলার সংকট সহজে কাটবে না। বিদেশি বিনিয়োগ পেতে দেশে স্থিতিশীলতা আনতে হবে। দেশের পরিবেশ ঠিক করতে হবে। এর সঙ্গে রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে। রেভিনিউ বাজেট কমাতে হবে। আমাদের আমাদের দেশে এত মিনিস্ট্রির প্রয়োজন নেই, আমাদের দেশ থেকে তিনগুণ বড় অর্থনীতির দেশে এত মিনিস্ট্রি নেই।

অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের করণীয় কী?

আবু আহমেদ: অর্থ পাচার রোধে প্রথমত অবৈধ অর্থের প্রভাব বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত যারা অর্থ পাচার করে বিদেশে নিয়ে গেছে তা ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক যেসব এজেন্সি আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে ফেরত আনতে হবে।

কিভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বাড়ানো যেতে পারে?

আবু আহমেদ: অর্থ পাচার বন্ধ করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা ও বিদেশি ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

ইসলামী ব্যাংকগুলোর ঐতিহ্য ফেরাতে কী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন?

 আগে ইসলামী ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকে ঋণ দিত। এখন ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিচ্ছে। আবার সময় মতো সেই টাকা ফেরতও দিতে পারছে না। এস আলম গ্রুপের লুটপাটের কারণে ডিপোজিট কমে গেছে। এটি ইসলামিক লোকদের হাতে আর নেই৷ এটা চলে গেছে নন ইসলামিক লোকদের হাতে। যারা লুটপাট করে তাদের হাতে। বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গ্রাহক ডিপোজিড রাখেনি। এতে ব্যাংকের তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। একদিক দিয়ে টাকা নেই হচ্ছে; অন্যদিক দিয়ে ডিপোজিট কমে যাচ্ছে। এজন্য ইসলামী ব্যাংক সমস্যায় পড়েছে। বর্তমানে গভর্নর ইসলামী ব্যাংকে যে বোর্ড দিয়েছে এতে ইসলামী ব্যাংক চলতে পারে,কিন্তু ঐতিহ্য ফিরে পাবে না। ঐতিহ্য ফেরাতে হলে ইসলামিক স্কলার লোক বোর্ডে দিতে হবে। ইসলামিক স্কলাররা যদি আসেন গ্রাহক আবারো ইসলামী ব্যাংকের ওপর আস্থা ফিরে পাবে। এতে করে ডিপোজিট বাড়বে। এখন সেই ইসলামী ব্যাংক আর নেই। আমি গভর্নরকে অনুরোধ করব- ইসলামী ব্যাংক বোর্ডে ইসলামী স্কলার টাইপের লোক দিতে। দরকার হলে ২০১৭ সালে বোর্ড অব ডিরেক্টরে যারা ছিল, তাদের নেয়া হোক। তাদের ওপর মানুষ বিশ্বাস করবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!