গানের জগতে তার তার প্রথম অ্যালবাম ‘প্রার্থনা’। বর্তমান ব্যস্ততা ও সমসাময়িক বিষয়ে ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হত তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম.আর রুবেল।
বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে?
সাবরিনা সাবা: রোজার ঈদে আমার ‘জর্দা ছাড়া পান’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশ হয়। এই গানটা মিউজিক ভিডিও হিসেবে প্রকাশ করার জন্য একটু ব্যস্ত এখন। মিউজিক ভিডিওটি ‘বিন হায়’ মিজিক্যাল গ্রুপের ইউটিউব চ্যানেলে অবমুক্ত করা হবে। কিছু অডিও গানের কাজ শেষ করেছি। একইসঙ্গে টিভি লাইভ তো আছেই।
.png)
গানের রেওয়াজ কি নিয়মিত করা হয়?
সাবরিনা সাবা: হ্যা রেওয়াজ নিয়মিত করা হয়। আমি মিনিমাম ৩০ মিনিট হাতে রাখি রেওয়াজের জন্য। সেটা ঘুম থেকে উঠে বা বিকেলে হোক এটা বাদ যায় না। আর আমাদের যে ‘বিন হায়’ মিউজিক্যাল টিম আছে সেখানে প্রতি সপ্তাহে প্রাকটিস থাকেই। প্রতিদিন বাংলা ,ইংরেজি এবং হিন্দি গানের রেওয়াজ করা হয়।
বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ছাড়া অন্য দেশের গান চর্চা হয়?
সাবরিনা সাবা: লটারি করে আমি বিভিন্ন দেশের গানের চর্চা করি। লটারিতে যে দেশের নাম আসে সেই দেশের জনপ্রিয় গানগুলো প্রেকটিস করি। এভাবে প্রায় ১৩-১৪ টি দেশের গান শেখা হয়েছে। সামনে অন্যন্যা দেশের গান শেখার পরিকল্পনা আছে। এটা আমার একটা শখ বলতে পারেন।
স্টেজ শো’র জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয় কি না?
সাবরিনা সাবা: টিভি চ্যানেলে লাইভ করার আগে যে প্রস্তুতি নিই এখানেও তেমনি থাকে। অনেক পরিশ্রম হয় স্টেজ শো করতে গেলে। মানসিকভাবে প্রস্তুতির একটা ব্যাপার থাকে। আর টিভিতে মানুষ আমাদের পর্দার সামনে থেকে দেখে। সরাসরি মানুষের প্রতিক্রিয়া আমরা দেখতে পাইনা। কোন গান গাইব সেটাও আগে ঠিক করা থাকে। সব জেনে বুঝে যাই। কিন্তু স্টেজ শো’র বিষয় একেবারে আলাদা। স্টেজ শোতে দর্শক বুঝে আমাকে গান গাইতে হয়। সেখানে দর্শক কেমন প্রতিক্রিয়া করে গান শুনে সেটা আমি দেখতে পাচ্ছি। অনেক সময় কড়া রোদ বা ঝড়-বৃষ্টিতে গান গাইতে হয়। এটা প্রস্তুতির অনেক বিষয় থাকে শারীরিক এবং মানুষিকভাবে।

কি ধরণের গান গাইতে পছন্দ করেন?
সাবরিনা সাবা: আমি সফট মেলোডি এবং রক মিউজিক গাইতে পছন্দ করি। তবে আমি সব ধরণের গান গাইতে পারি। সেটা ফোক, ক্লাসিক্যাল, সেমি ক্ল্যাসিক্যাল আমি সব গান গাইতে কম্ফোর্ট ফিল করি।
গানে মানুষের আগ্রহ কি কমে গেছে?
সাবরিনা সাবা: মানুষ এখন গানের সঙ্গে ভিডিও চায়। অর্থাৎ মিউজিক ভিডিওতে আগ্রহ বেড়ে গেছে। এখন কিছু গান খুব জনপ্রিয় বা ভাইরাল হচ্ছে কিন্তু একটা সময় আর সেটার প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকে না। আর আমরা কষ্টে বা আনন্দে বা কাজ শেষে বাসা ফিরে আমরা কিন্তু পুরনো দিনের গানগুলো শুনি। নতুন কোনো গান কিন্তু আমরা শুনিনা। আর নতুন গান শুনলেও তার স্থায়ীত্ব মাত্র কয়েকমাস হয়।
অগ্রজ এবং অনুজদের মধ্যে কাকে ভাল লাগে আপনার?
সাবরিনা সাবা: আমাদের লিজান্ডারি গায়ক সবাইকে পছন্দ। সবাইকে ভাল লাগে। তাদের গান করার স্টাইল আমি ফলো করি। তবে কয়েকজনকে স্পেশালি পছন্দ করি। যেমন রুনা লায়লা ম্যাডাম, কণা আপুর গান খুব ভাল লাগে। আর নতুনদের মধ্যে আতিয়া আনিসার গান অনেক ভাল লাগে। ভাল করছে সে। একই সঙ্গে অবন্তী সিঁথির গানও আমার পছন্দ।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রাপ্তি কি?
সাবরিনা সাবা: আমি মৌলিক গান দিয়ে শুরু করেছি। মৌলিক গান দিয়ে মানুষ আমাকে চিনছে। আমি গত ২-৩ বছরে গানে নিয়মিত নই। মানুষ আমাকে তবুও মনে রেখেছে। এখনো মানুষ আমার গান শুনে এটা অনেক কিছু। আর মানুষ আমাকে গ্রহণ করেছে এটাই বড় প্রাপ্তি।
আর অপ্রাপ্তি?
সাবরিনা সাবা: অপ্রাপ্তি অনেক কিছুই আছে। তবে দীর্ঘ এক যুগের ক্যারিয়ারে আমি প্লে-ব্যাকে সাড়া পাইনি। ব্যাটে বলে না মেলায় হয়নি করা।