ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাক্ষাৎকার ]

‘বেরোবির সেশনজট নিরসন হয়েছে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে’

ফারহান সাদিক সাজু, বেরোবি
প্রকাশিত: ১৭:২৮, ৪ এপ্রিল ২০২৩
‘বেরোবির সেশনজট নিরসন হয়েছে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে’
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছেন প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগে দুই থেকে তিন বছর বা তারও অধিক সেশনজট ছিল। 

তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার গতি ফিরে পেয়েছে। অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে শৃঙ্খলা এসেছে। এছাড়াও বর্তমানে শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের গবেষণার মাধ্যমে আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ও বাহিরে। সেশনজট নিরসনে স্বস্তি ফিরেছে। 
  
সেশনজট নিরসনের আদ্যোপান্ত নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন বেরোবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারহান সাদিক সাজু

ডেইলি বাংলাদেশ: সেশনজট নিরসনে স্বস্তি ফিরেছে বেরোবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এর পেছনের গল্পটা শুনতে চাই। 

Advertisement

আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ: কোভিড-১৯ এর কারণে প্রায় দেড় বছর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। এর আগেও একেক ডিপার্টমেন্টে একেক ধরনের সেশনজট ছিল ন্যূনতম দুই বছর। সবমিলে দেখা যাচ্ছে, সাড়ে তিন থেকে চার বছরের সেশনজট ছিল। তবে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ দায়িত্বে আসার পর সেশনজটকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা কমানোর চেষ্টা করলেন। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ডিপার্টমেন্টে তা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এটি আসলে একদিনেই সম্ভব হয়নি। গত দেড় বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সবারই ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলাফল হচ্ছে সেশনজটমুক্ত হওয়া। এটি হওয়ার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারছে।

ডেইলি বাংলাদেশ: শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও  কিভাবে এটি মুক্ত করেছেন? 

আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সংকট অন্যান্য যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তুলনায় বেশি। তবে সেটি সম্ভব হয়েছে আমাদের সমন্বিত পরিকল্পনার   মাধ্যমে। উদাহরণ হিসেবে যদি আমি বলি আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইটি সেমিস্টার ছিল, সেটিকে বছরে তিনটি সেমিস্টারে করা হয়েছিল। এটি করার ফলে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় বিশেষজ্ঞকে মনোনয়ন দিলাম। এর ফলে  আমাদের যে শিক্ষক স্বল্পতা সেটি আর থাকল না। ফলে আমাদের এ কঠিন কাজটি সম্পূর্ণ হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ: সেশনজট নিরসন করা আপনার কাছে কঠিন বা সহজ মনে হয়েছে।  আপনার দৃষ্টিকোণ থেকে যদি বলতেন? 

আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ: সেশনজট নিরসন মোটেও কঠিন ছিল না। সহজ ব্যাপারই মনে হয়েছে আমার কাছে। আমাদের এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের যেমন একটা ভূমিকা থাকতে হবে, প্রশাসনের ভূমিকা থাকা, এছাড়াও শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে সহজেই এটি নিরসন করতে সক্ষম হয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ: আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কি? 

আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ: প্রথমেই বলব, শিক্ষক হিসেবে আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হবে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি করা। যেটি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট হতে পাশ হওয়া উচিত। কোন সময় কোন পরীক্ষা হবে সবকিছু লিপিবদ্ধ করা থাকবে ক্যালেন্ডারে। এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সেশনজটে পড়বে না শিক্ষার্থীরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!