৭৫ একরের এই ক্যাম্পাস সারা বছর নানা ধরনের সাংস্কৃতিক উৎসবে মুখরিত থাকলেও সকাল থেকে সেই সৌন্দর্যের মাত্রাটা আরো বেড়েছে নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা হাজার হাজার নবীনদের পদচারণায় মুখর এখন উত্তরবঙ্গের অন্যতম এই বিদ্যাপীঠ। নবীন শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে প্রাণের আরেক মাত্রা যোগ হয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি আড্ডাস্থলে পুরনোদের পাশাপাশি আলো ছড়াচ্ছেন নবীন মুখগুলো। প্রথমদিনে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ক্যাম্পাসে আসতে থাকেন নবীন শিক্ষার্থীরা।
আবার কেউ প্রস্তুতি নিতে থাকে ক্যাম্পাসের প্রথম দিন কীভাবে কাটাবে এবং কী করবে। প্রবীণরাও প্রস্তুতি নিতে থাকে কীভাবে নবীনদের বরণ করে নেয়া যায়। প্রস্তুতি শেষে ওরিয়েন্টেশনের দিনেই সেটি প্রকাশ পায়। সবাই ভেসে যায় আনন্দের জোয়ারে।
.png)
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, নবীন শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে। অনেক নবীনের সঙ্গে আবার তাদের অভিভাবকদেরও দেখা গেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের প্রবীণরাও এসেছেন সাজগোজ করে নানা আয়োজনে নবীনদের বরণ করে নিতে। প্রবীণ ছাত্রীদের কেউ কেউ শাড়ি পরে ও ছেলেরা এসেছে পাঞ্জাবি অথবা শার্ট-কোর্ট-টাই পরে। প্রত্যেক বিভাগে পৃথক পৃথকভাবে ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের আয়োজন করা হয়।

ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে স্ব স্ব বিভাগের শিক্ষক ও নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. সরিফা সালোয়া ডিনা প্রক্টর গোলাম রব্বানীসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কমকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষকরা নবীনদের রজনীগন্ধা ও গোলাপ ফুল উপহার দেওয়ার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয়। এ সময় শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতিমূলক বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা বিষয়ক আলোচনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার জন্য নবীনদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রবীণরাও নবীনদের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং বিতরণ করে টি-শার্ট, রজনীগন্ধা ও লাল গোলাপ।
রাজশাহী থেকে আসা লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস আমার খুব ভালো লেগেছে। ক্যাম্পাস দেখে মনে হয়েছে এটি পরিবেশবান্ধব। শিক্ষক, সহপাঠীসহ সবার ব্যবহারে আমি মুগ্ধ। আজকের এই দিনটি সফলতা প্রাপ্তির দিন। আমি আশা করছি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সামনে দেশ ও জাতিকে ভালো কিছু উপহার দেব।
ক্যাম্পাসের প্রথম দিনের অনুভূতি কেমন? এ নিয়ে কথা হয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের সজিবের সঙ্গে। তিনি অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আজকের এই ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের জন্য আমি অনেক এক্সাইটেড। আমাদের ক্যাম্পাস সবুজ-শ্যামল হওয়ায় অনেক ভালো লেগেছে। কিন্তু মনে মনে একটা ভীতি কাজ করছিল যে, আমাদের শিক্ষক, বড় ভাই-আপু, সহপাঠীরা যে কেমন হবে? কিন্তু আসার পর দেখলাম তারা অনেক ভালো এবং হেল্পফুল, এ বিষয়টি আমার খুব ভালো লেগেছে। তাদের সবার ব্যবহারে ও কথা-বার্তায় আমি মুগ্ধ। অনেক চড়াই-উৎরাই পার করার পর আজকে আমার জীবনের একটি আশা পূরণ হয়েছে। আজকের এই দিনটা আমার জীবনের স্মরণীয় একটি দিন হয়ে থাকবে, যা কখনো ভোলার নয়।
বাংলা বিভাগের রাফিয়া আক্তার নামের নবীণ শিক্ষার্থী বলেন, আজকের এই দিনটি সম্পর্কে আমি আগে শুধু শুনেই এসেছি। আজ তার বাস্তবায়ন হলো। আজকে সহপাঠীদের অমায়িক ব্যবহার, শিক্ষকদের বন্ধুসুলভ আচরণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনমুগ্ধকর পরিবেশ আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমরা আজকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পদার্পণ করতে পেরে অনেক খুশি হয়েছি। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন স্মৃতিপটে শ্রেষ্ঠদিন হয়ে থাকবে।
ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এর ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিফ্তাহুল জান্নাত বলেন, আমি আনন্দিত যে, আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে পেরেছি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস আমার খুব ভালো লেগেছে। ক্যাম্পাস দেখে মনে হয়েছে এটা পরিবেশবান্ধব। শিক্ষক, সহপাঠীসহ সবার ব্যবহারে আমি মুগ্ধ। আজকের এই দিনটি সফলতা প্রাপ্তির দিন। আমি আশা করছি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সামনে দেশ ও জাতিকে ভালো কিছু উপহার দেবো।
প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ফেরদৌসী আক্তার বলেন, আজকে ক্যাম্পাসে যারা নতুন এসেছে, তারা ঠিক আমাদের কাছে নিউবর্ন বেবির মতো। ক্যাম্পাসটি মাঝখানে কিছুটা সময় প্রায় মরুভূমির মতো ছিল। নতুনদের পদচারণায় সবুজ-শ্যামল ক্যাম্পাস আবার মুখরিত হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে নতুনদের সঙ্গে মিলন মেলার আয়োজন হয়েছে, যেটা আমার অনেক বেশি ভালো লাগছে। তিনি আরো বলেন, এবারে প্রতিটি বিভাগে নবীন বরণ হচ্ছে। আমরা এটাকে আরো বেশি উপভোগ করছি। সবার সঙ্গে পরিচিতি লাভের একটা সুন্দর প্ল্যাটফর্ম হয়েছে।
এদিকে নবীনদের সার্বিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি সর্বদা তৎপর রয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, নবীনদের আগমন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে প্রক্টরিয়াল বডি তৎপর রয়েছে। র্যাগিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এরই মধ্যে সব ধরনের সচেতনতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এরপরও যদি র্যাগিংয়ের মতো কোনো ঘটনা ঘটে, আর যদি সে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা হবে।