মঙ্গলবার প্রকাশিত ঐ প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, চলমান যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে সংঘাতের ইতি টানার চেষ্টা হিসেবেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থনৈতিক প্রভাব সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
.png)
তবে পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই পরিকল্পনা ইরানের কতজন কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে বা তারা এটিকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। একইভাবে এই প্রস্তাবে ইসরায়েল সম্মত কি না, তাও নিশ্চিত নয়।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-ও জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে এক মাসের যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে এই ১৫ দফার প্রস্তাব দিয়েছে। সূত্রের বরাতে তারা জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির পক্ষে কাজ করছেন, যাতে ৩০ দিনের মধ্যে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা যায়।
প্রস্তাবে ইরানকে তার পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থামানো এবং ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির স্থায়ী প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া অঞ্চলজুড়ে মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রাখার নিশ্চয়তাও চাওয়া হয়েছে।
বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বুশেহর অঞ্চলে বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্পে সহায়তা এবং জাতিসংঘের পূর্বের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ‘স্ন্যাপব্যাক’ ঝুঁকি তুলে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে এখনো যুদ্ধ দ্রুত থামার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ইরানে সামরিক হামলাও অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: সিনহুয়া