ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানের হাসপাতালে নিহত ৪০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:২৮, ১৭ মার্চ ২০২৬
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানের হাসপাতালে নিহত ৪০০
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে অন্তত ৪০০ জন নিহতের দাবি তালেবান সরকারের। 

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দাবি করেছে, সোমবার ( ১৬ মার্চ ) রাতে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর হামলায় কাবুলের একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন ও চিকিৎসা কেন্দ্রে (ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল বা ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট সেন্টার) কমপক্ষে ৪০০ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন। এটি সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানে সবচেয়ে ভয়াবহ হতাহতের ঘটনাগুলোর একটি বলে বিবেচিত হচ্ছে।

তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত তার এক্স অ্যাকাউন্টে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ কাবুলের ৯ নম্বর জেলায় অবস্থিত এই ২,০০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলায় বেসামরিক নাগরিকরা, বিশেষ করে মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির চিকিৎসাধীন রোগীরা শহীদ হয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে কাজ করছে—আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও এক্স-এ পোস্ট করে বলেছেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করেছে এবং একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে বহু বেসামরিক নাগরিক শহীদ ও আহত হয়েছেন।

আফগানিস্তানের একটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃতদেহ বের করার কাজ চলছে এবং স্থানীয় সূত্র অনুসারে ২০০ থেকে ৪০০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলার পর আগুন লেগে যাওয়ায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়া কাবুলের অন্যান্য এলাকায়, যেমন অষ্টম জেলায় একটি সামরিক কেন্দ্র এবং নবম জেলায় আরও কয়েকটি স্থানে হামলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।


পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগান তালেবান তথ্য বিকৃত করে উপস্থাপন করছে। পাকিস্তান কাবুল ও নানগারহারে শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসী সহায়তা অবকাঠামো লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। এসব স্থানে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার ও গোলাবারুদের গুদাম ছিল, যা আফগান তালেবান ও পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) জঙ্গিরা পাকিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছিল। হামলায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগকে মানুষের আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশ একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল, কিন্তু ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। সীমান্তে টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তান একাধিকবার আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে। গত মাসেও কাবুলে হামলা হয়েছে, যা আফগানিস্তান তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে এই হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে।

সূত্রঃ আলজাজিরা 

ডেইলি-বাংলাদেশ/টিএএস
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!