রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গোয়েন্দা তৎপরতা ও হামলার পরিকল্পনা
.png)
সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার নিবিড় সমন্বয় ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা কাজ করেছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান ও গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। সম্প্রতি তারা নিশ্চিত তথ্য পায় যে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্সে—যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় অবস্থিত—একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে খামেনি উপস্থিত থাকবেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা বদলে ফেলে। প্রথমে রাতের আঁধারে হামলার কথা থাকলেও, বৈঠকের সময় ও স্থান নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার সকালে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলকে ‘অত্যন্ত নির্ভুল’ তথ্য সরবরাহ করে সিআইএ।
দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি ও দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সফল হামলা দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও কার্যকর গোয়েন্দা কাজের ফল। ২০২০ সালের জুনে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় আছেন এবং চাইলে তাকে হত্যা করা সম্ভব।
সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সে সময় যে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক এই অভিযানেও একই নেটওয়ার্ক কাজে লাগানো হয়েছে।
এরপর থেকে, বিশেষ করে ১২ দিনের সাম্প্রতিক সংঘাতের সময়, খামেনি ও আইআরজিসির (ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কর্পস) চলাফেরা ও যোগাযোগ পদ্ধতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র আরো বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই খামেনির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাঁকফোকর ও অসতর্কতার পরিচয় দেয়। যুদ্ধের স্পষ্ট প্রস্তুতি ও হুমকি থাকা সত্ত্বেও খামেনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন না বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।
সমন্বিত হামলা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, শুধু খামেনির বৈঠকস্থল নয়, ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থান করছেন বলে চিহ্নিত অন্যান্য স্থানেও একযোগে হামলা চালানো হয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গোয়েন্দা প্রধানরা সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
এদিকে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ এই অভিযানে তারা এক দিনের ব্যবধানে ইরানে ১২০০-এর বেশি বোমা ও গোলাবারুদ নিক্ষেপ করেছে।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও হামলার শিকার হয়েছে, যেখানে অন্তত ১৪৮ জন নিহত হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানানো হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ‘বহু নিরীহ শিশু’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘এই হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।’
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হোয়াইট হাউস ও সিআইএ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেও ইসরায়েল ‘কৌশলগত চমক’ দিয়ে এই হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক উত্তেজনা সৃষ্টি করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস