ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ইউন সুক-ইওলের বাসভবন ঘেরাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৩, ৩ জানুয়ারি ২০২৫
ইউন সুক-ইওলের বাসভবন ঘেরাও
ইউন সুক-ইওল

দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে গ্রেফতার করতে তার বাসভবন ঘেরাও করেছে তদন্তকারীরা। তবে স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, নিরাপত্তাবাহিনী তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।

দেশটির দুর্নীতি তদন্তকারী কার্যালয় বলছে, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা শুরু হয়েছে। তদন্তকারী কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও পুলিশকে ইওলের বাসভবনের ভেতরে ঢুকতে দেখা গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তারা ইওলকে গ্রেফতারের পর সিউলের কাছে গোয়াচিওনে তাদের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যেতে চান। গ্রেফতারি পরোয়ানার বিধি অনুসারে তাকে সেখানে ৪৮ ঘণ্টা রাখা হতে পারে। তাকে হাজতে নিতে আরেকটি পরোয়ানা প্রয়োজন হবে।

Advertisement

ইওলের বাসভবনের সামনে তার সমর্থকদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। সমর্থকেরা পোস্টার ও ব্যানার নিয়ে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়েছেন। তারা ইওলকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে স্লোগান দিচ্ছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির সাংবাদিকরা জানান, জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি লি দায়ে হুয়ানসহ তদন্তকারী কর্মীরা কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হয়ে ঐ বাসভবনের ঢোকার চেষ্টা করছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ইওনহাপ সংবাদ সংস্থার খবর বলছে, ইওলের বাসভবনের ভেতরে থাকা সেনাবাহিনীর একটি দল তাদের প্রতিহত করেছে। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তাকর্মীরা তদন্তকারীদের পরোয়ানা মানবে কি না তা স্পষ্ট নয়। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তাকর্মীরা এর আগে ইওলের বাসভবনে পুলিশের প্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করেছে।

এ বিষয়ে ইওলের আইনজীবী ইওন ক্যাপ কিউন বলেছেন, বেআইনি পরোয়ানা কার্যকর করা বৈধ নয়।

প্রসঙ্গত, গত ৩ ডিসেম্বর উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট শক্তির হুমকি থেকে মুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্র রক্ষা, জনগণের স্বাধীনতা ও সুখ লুণ্ঠনকারী ঘৃণ্য উত্তর কোরিয়াপন্থী রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলোকে নির্মূল এবং উদার সাংবিধানিক সুরক্ষার ঘোষণা দিয়ে হঠাৎ করে দেশজুড়ে সামরিক আইন জারি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল।

যদিও বিরোধীদের তীব্র আপত্তি ও সংসদে ভোটাভুটির পর মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে সেই সামরিক আইন প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার এই প্রেসিডেন্টের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদালত। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত চলমান আছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ইউন অভিশংসিত হওয়ায় তার স্থানে এখন একজন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। অবশ্য সংসদে অভিশংসিত হলেও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে প্রেসিডেন্ট পদে থাকবেন ইউন। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে না তার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!