ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে যেভাবে ফাঁকি দিলো হিজবুল্লাহর ড্রোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:১৯, ১৪ অক্টোবর ২০২৪
ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে যেভাবে ফাঁকি দিলো হিজবুল্লাহর ড্রোন
ফাইল ফটো

‘মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার’ খ্যাত দেশ ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বেশ নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত। তবে সেই প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে ইসরায়েলের অনেকটা ভেতরে ঢুকে প্রাণঘাতী হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে লেবাননের সশস্ত্র প্রতিরোধগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ড্রোন।

রোববার (১৩ অক্টোবর) মধ্য-উত্তর ইসরায়েলের একটি সেনাঘাঁটিতে চালানো এই ড্রোন হামলায় অন্তত চার ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, হামলায় আহত সাত সেনার অবস্থা গুরুতর।

Advertisement

রোববার স্থানীয় সময় দিনের শেষ ভাগে ওই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এদিনই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার শিকার হলো ইসরায়েল।

আইডিএফ জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর পাঠানো একটি ড্রোন বিন্যামিনা শহর-সংলগ্ন একটি ইসরায়েলি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায়। শহরটির অবস্থান তেলআবিবের উত্তরে, লেবানন সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ মাইল দূরে।

এর আগে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা বিন্যামিনায় ইসরায়েলি বাহিনীর একটি পদাতিক প্রশিক্ষণ শিবির লক্ষ্য করে হামলা চালাতে একঝাঁক ড্রোন পাঠিয়েছে।

হিজবুল্লাহর এই ঘোষণার পরই ইসরায়েলে ড্রোন হামলার খবর আসে।

হিজবুল্লাহ জানায়, গত বৃহস্পতিবার লেবাননে চালানো ইসরায়েলি হামলার বদলা হিসেবে তারা রোববার ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত বৃহস্পতিবার লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২২ জন নিহত এবং ১১৭ জন আহত হন।

হিজবুল্লাহ আরো জানায় যে, তারা ইসরায়েলের গোলানি ব্রিগেডকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইসরায়েলি গোলানি ব্রিগেড মূলত আইডিএফের একটি পদাতিক ইউনিট। এই ইউনিটের সদস্যদের দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর খবরে বলা হয়, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নির্ভরযোগ্য হলেও রোববার এই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পেরেছে হিজবুল্লাহর ড্রোন। তবে এ হামলার সময় বিন্যামিনা এলাকায় কোনো সতর্কবার্তার খবর পাওয়া যায়নি। ফলে হিজবুল্লাহর এই ড্রোনগুলো কীভাবে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের এতটা গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যতিব্যস্ত রাখার জন্য উত্তর ইসরায়েলি শহর নাহরিয়া ও একর লক্ষ্য করে বেশ কয়েক ডজন রকেট ছোড়ে। একই সঙ্গে তারা একঝাঁক ড্রোন পাঠায়।

আর এ কারণেই মূলত এই ড্রোনগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে এড়াতে পেরেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা রাডারগুলোকে ফাঁকি দিতে পেরেছে। ড্রোনগুলো বিন্যামিনার অভিজাত গোলানি ব্রিগেডের প্রশিক্ষণ শিবিরের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে আঘাত হানতে পেরেছে।

এ বিষয়ে আইডিএফের শীর্ষ মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ ঘটনার তদন্ত করবে। কীভাবে ঘাঁটিতে ড্রোন প্রবেশ করল এবং কোনো সাইরেন বাজল না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

ওই ঘাঁটি থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় হাগারি জানান, তারা এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবেন এবং ঘটনার তদন্ত করবেন।

আইডিএফের এই মুখপাত্র বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধের শুরু থেকেই ড্রোনের হুমকি মোকাবিলা করে আসছে। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরো উন্নতি দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!