ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত অন্তত ৩৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ২৪ আগস্ট ২০২৪
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত অন্তত ৩৭
ফাইল ফটো

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় রাতভর হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৩৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে অধিকাংশই দক্ষিণ এবং মধ্য গাজার বাসিন্দা।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, এদের অধিকাংশই শনিবার ভোরে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের আশপাশে নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও চার শিশু রয়েছে। বাড়িতে গোলা হামলায় তাদের মৃত্যু হয়।

আল-জাজিরার ‘সনদ’ ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থার যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, খান ইউনিসের বাইরে নাসের হাসপাতালে বহু মরদেহ লাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। শনিবার সকালের হামলায় নিহতদের অধিকাংশকে এখানে এনে রাখা হয়েছে।

Advertisement

নিহতদের প্লাস্টিকের শীট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে আর তা তুলে তাদের শেষ দেখা দেখে নিচ্ছেন স্বজনরা, ভিডিওতে এমনটি দেখা গেছে।

শনিবারের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় প্রধানত গাজার পূর্বাঞ্চলীয় দেইর এল-বালাহ শহর ও খান ইউনিসের উত্তরপশ্চিমাংশে ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক হামলা চালায়। মৃতদের অধিকাংশই এই দুই শহর বা তার আশপাশে নিহত হয়েছেন। দেইর এল-বালাহের পাঁচ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে আল-নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরেও হামলা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরাও রয়েছেন। সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। বাস্তুচ্যুত এসব লোকজন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর ঘোষিত মানবিক এলাকাগুলোতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন, এসব এলাকা নিরাপদ হওয়ার কথা থাকলেও সেখানেই ইসরায়েলি হামলায় নিহত হচ্ছেন তারা।

গাজাজুড়ে এসব হামলায় আরো বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এদিন ভোর থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে গাজার দেইর এল-বালাহ, আল-নুসেইরাত শরণার্থী শিবির ও খান ইউনিসে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করে ইসরায়েলি বাহিনী।

হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড টেলিগ্রামে বলেছে, তারা দেইর এল-বালাহ শহরের পূর্বাংশে ইসরায়েলি সেনাদের বহনকারী একটি গাড়িতে ইয়াসিন-১০৫ রকেট যোগে হামলা চালিয়েছে।

এই শহরটিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে। শনিবার সকালে এখানে ব্যাপক গোলাবর্ষণের পাশাপাশি বিমান হামলাও চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বলছেন, এই সংঘাতের কারণে ‌‘সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুদের’। গাজা উপত্যকায় গুরুতর মানবিক সহায়তা সংকট দেখা দিয়েছে এবং সেখানে ভয়াবহ অপুষ্টি শিকার হচ্ছে শিশুরা।

উল্লেখ্য, দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনি সাধারণ জনগণের ওপর দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো নির্যাতন, গণহত্যা, বাড়ি-ঘর ও জমি দখল, হেনস্তা ইত্যাদির প্রতিবাদে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ চালায় ইসরায়েল। প্রায় ১০ মাস ধরে অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

মাসের পর মাস ধরে চলা এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০ হাজার ২৬৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরো ৯৩ হাজার ১৪৪ ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু।

ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনের তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। স্থানীয় সময় শুক্রবার গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। যুদ্ধবিষয়ক একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, হামাসের সঙ্গে যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ এবং আল আকসা মার্টার্স ব্রিগেডস।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!