বুধবার ( ১০ জুলাই) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই আদেশ জারি করেছে।
আদেশে বলা হয়েছে, একজন তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম নারী ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১২৫ এর অধীনে তার স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ চাইতে পারেন-বিচারপতি বিভি নাগারথনা এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চ এই রায় দেয়ার পর ‘হোমমেকারদের’ কাজের স্বীকৃতি দেয়ার পর্যবেক্ষণটি এসেছে। বেঞ্চ বলেছে, ভরণপোষণ চাওয়ার অধিকার সকল বিবাহিত নারীদের জন্য প্রযোজ্য, ধর্ম নির্বিশেষে।
.png)
আদালত জানিয়েছে, ‘পরিবারে গৃহিণীদের ভূমিকার কথা মাথায় রেখে আদালত স্বামীদেরকে তাদের স্ত্রীদের আর্থিক নিশ্চয়তা দেয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। আমরা প্রত্যেক স্বামীকে তার স্ত্রীর আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছি।’
এক্ষেত্রে পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করা এবং স্ত্রীকে এটিএম অ্যাক্সেস দেয়ার মতো ব্যবহারিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে আদালত।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারার অধীনে বিবাহবিচ্ছেদের পরে একজন মুসলিম নারী তার স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণবাবদ আর্থিক নিশ্চিয়তা চাইতে পারবেন। ভরণপোষণ দাতব্য নয় বরং এটি বিবাহিত মহিলাদের মৌলিক অধিকার।
আদালত জানায়, এই অধিকার ধর্ম নিরপক্ষেতা, বিবাহিত নারীদের লিঙ্গ সমতা এবং আর্থিক নিরাপত্তাকে আরো শক্তিশালী করবে।
আদালত আরো জানায়, ধারা ১২৫ মতে, একজন ব্যক্তি যিনি পর্যাপ্ত উপার্জন করেন তিনি তার স্ত্রী, সন্তান বা পিতামাতার ভরণপোষণ অস্বীকার করতে পারেন না।
মোহাম্মদ আবদুল সামাদ নামে একজন ব্যক্তির পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দিয়েছে। সামাদকে একটি পারিবারিক আদালত তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ২০ হাজার রুপি মাসিক ভাতা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা দিতে রাজি ছিলেন না।
এজন্য সামাদ তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। যা পরবর্তীতে কমিয়ে ১০ হাজার রুপি করা হয়েছে। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান। কিন্তু শীর্ষ আদালতেও সেই পিটিশন খারিজ করে দেয়া হয়।
কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের (সিআরপিসি) ১২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী, সন্তান এবং পিতামাতার ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সন্নিবেশিত আছে। এই ধারা অনুসারে, স্বামী, পিতা বা সন্তানের উপর নির্ভরশীল স্ত্রী, পিতা-মাতা বা সন্তানরা তখনই ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন যখন তাদের জীবিকার অন্য কোন উপায় নেই।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস