জাহাজ কর্মীদের যে পদক্ষেপে বেঁচে গেছে অনেক মানুষের জীবন
জাহাজটি কর্মকর্তারা বলছেন, সেতুর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগার আগে জাহাজটির বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন হয়ে যায় এবং সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ঘটনার আগে জাহাজটি একটি সংকেত পাঠিয়েছিল। ফলে সেতুতে ওঠার মুখে অনেক গাড়ি থামানো সম্ভব হয়। এতে অনেক মানুষের জীবন বেঁচে গেছে। তবে এ ঘটনায় জাহাজের বিশেষ কোনো ক্ষতি হয়নি।
.png)
বাল্টিমোর বন্দর থেকে শ্রীলঙ্কায় ২৭ দিনের যাত্রার শুরুতে বন্দর ছেড়ে যাওয়ার পরে জাহাজটির বিদ্যুৎ একেবারেই চলে গিয়েছিল। এটি এ সময় সেটি ফ্রান্সিস স্কট কী সেতুর দিকে যাচ্ছিল। যখন জাহাজের আলো হঠাৎ নিভে যায় তখন মধ্যরাত ছিল, জাহাজের নাবিকরা এ সময় অন্ধকারে ডুবে যায়।

এক পযার্য়ে জাহাজটি অকার্যকর হয়ে গিয়েছিল, কোনো ইলেকট্রনিক্স এবং ইঞ্জিনের পাওয়ার কাজ করছিল না। যা ঘটছিল তখন তা থামানোর জন্য তাদের কোন উপায় ছিল না। সমস্যাটি সমাধান করতে এবং বিদ্যুৎ ফিরে পেতে নাবিকদের আপ্রাণ ব্যর্থ চেষ্টার সময় একাধিক অ্যালার্ম বেজে উঠেছিল। জাহাজের পাইলট নাবিকদের আদেশ দিয়েছিলেন, রাডারটিকে পোর্টের দিকে শক্তভাবে ধরে রাখতে এবং নোঙ্গর ফেলে দিতে যাতে স্টারবোর্ডটি ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।
একটি জরুরী জেনারেটর থাকলেও জাহাজের ইঞ্জিনগুলোতে সেগুলো ব্যবহার করা যায়নি।

সবশেষে জাহাজটির পাইলটের আর কোনো উপায় ছিল না। রাত দেড়টার কিছুক্ষণ আগে, তারা একটি মে ডে কল করে আসন্ন সংঘর্ষের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে।
রেডিও ট্র্যাফিক রেকর্ডে মেরিল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির একজন কর্মকর্তার জানান, একটি জাহাজ আসছে যেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, যতক্ষণ না আপনি এটি নিয়ন্ত্রণে না পান, আমাদের সমস্ত ট্র্যাফিক বন্ধ করতে হবে।
ব্যবসায়ীদের উপর প্রভাব
বাল্টিমোর হলো যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম ব্যস্ত বন্দর। এই বন্দর দিয়ে গাড়ি প্রস্তুতকারকরা তাদের গাড়ি অন্যত্র পাঠান। জেনারেল মোটরস একটা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার খুব বেশি প্রভাব তাদের উপর পড়বে না। তারা আপাতত অন্য পথ ব্যবহার করে বন্দরে গাড়ি পাঠাবেন।
অ্যামেরিকয় ফকসওয়াগনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার কোনো প্রতিক্রিয়া তাদের উপর পড়বে না।
বিএমডাব্লিউ ডানিয়েছে, বন্দরের কার ডক সমুদ্রের দিকে। তাই তাদের গাড়িভর্তি ট্রাকগুলি অন্য পথ ব্যবহার করে সেখানে পৌঁছে যাবে।
মার্সিডিজের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। তবে তাদের গাড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে বলে তারাও মনে করছে না।
নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে তল্লাশি
সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ছয়জন নিখোঁজ রয়েছে। তারা মারা গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ছয় জনের সন্ধানে নৌকা এবং হেলিকপ্টারগুলি অনুসন্ধান প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আরো দুজনকে পানি থেকে তোলা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

ইউএস কোস্ট গার্ডের রিয়ার অ্যাডমিরাল শ্যানন গিলরথ সন্ধ্যায় বলেছেন, পানির তাপমাত্রা এবং কতক্ষণ তারা পানির নিচে ছিল তার উপর ভিত্তি করে বাকি নিখোঁজ ব্যক্তি যারা পানিতে পড়েছিল তাদের মৃত বলে ধরে নেয়া হচ্ছে৷
মেরিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর পরে নাবিকদের ‘নায়ক’ হিসাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ‘জীবন বাঁচিয়েছে’। কারণ কর্তৃপক্ষ কল এবং সংঘর্ষের দুই মিনিটের মধ্যে সেতুতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল।
জাহাজের মালিকপক্ষ যা বলছে
এদিকে পণ্যবাহী জাহাজটির মালিক সংস্থা ‘সিনার্জি মেরিন গ্রুপ’ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যে তাদের জাহাজটি সেতুর পিলারে ধাক্কা মেরেছিল।

ওই শিপিং কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ও পণ্যবাহী জাহাজ ‘ডালি’ বাল্টিমোরের ফ্রান্সিস স্কট কি ব্রিজের একটি পিলারে ধাক্কা মারে।
সেতুটিতে ধাক্কা দেওয়া ক্রুদের পরিচয়
সেতুটিতে ধাক্কা দেওয়া ওই জাহাজের ২২ ক্রুর সবাই ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতের। ভারতীয় ক্রু থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিখ্যাত শিপিং কোম্পানি মায়েরস্ক। যেটি ‘ডালি’ নামে সিঙ্গাপুরের পতাকাযুক্ত কন্টেইনারবাহী জাহাজটি পরিচালনা করছিল। জাহাজটিতে ২২ ভারতীয় নাবিকের সবাই অক্ষত রয়েছেন বলেও জানা গেছে।