ইন্দ্রা বাই নামের ঐ নারীকে হেফাজতে নেয়ার পর সোমবার জেলে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া তার মেয়েকে একটি এনজিওর হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ভিক্ষাকে পারিবারিক ব্যবসার পরিণত করেছে এ পরিবার।
.png)
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, রাজস্থানের একটি গ্রাম থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরে এসে সেখানকার এক রাস্তার মোড়ে সপরিবারে ভিক্ষা করে লাখ লাখ রুপি উপার্জন করেছে ঐ পরিবার। স্বামী-স্ত্রী নিজেরা তো ভিক্ষা করেনই, একই কাজে লাগিয়েছেন তাদের ৫ সন্তানের তিনজনকে।
বাকি দুই সন্তানকে তারা রেখে এসেছেন গ্রামের বাড়িতে। সম্প্রতি ইন্দোরের লব কুশ স্কোয়ার মোড়ে প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েছেন এ নারী। তিনি জানিয়েছেন, গত ৪৫ দিনে তিনি আড়াই লাখ রুপিরও বেশি অর্থ উপার্জন করেছেন!
স্বামী-স্ত্রী তো ভিক্ষা করেনই, একই কাজে লাগিয়েছেন তাদের ৫ সন্তানের তিনজনকে। শুধু তাই নয়, ঐ নারীর বোন- ভগ্নিপতিও একই কাজে যুক্ত।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ৪৫ দিনে যে আড়াই লাখ রুপি আয় হয়েছে, তার থেকে ১ লাখ রুপি তিনি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়েছেন। আর ৫০ হাজার রুপি দিয়ে ছেলে-মেয়েদের নামে একটি ফিক্সড ডিপোজিট করেছেন। বাকি টাকা, নিজেদের পেছনে ব্যবহার করেছেন।
অভিযুক্ত ঐ নারী জানিয়েছেন, উৎসব বা বিয়ের মৌসুমে দুই সপ্তাহে তার ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত আয় হয়েছে। মূলত ভিক্ষাবৃত্তিকে একেবারে পারিবারিক ব্যবসার পরিণত করেছে এ পরিবার। স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের ৩ সন্তানের সবাই ভিক্ষা করেন। শুধু তাই নয়, ঐ নারীর বোন এবং ভগ্নিপতিও একই কাজে যুক্ত।
এ নারীকে আটকের সময় তার কাছ থেকে নগদ অর্থও উদ্ধার করা হয়। অবশ্য এই মা-মেয়ে প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেও পালিয়ে গেছেন বাবা এবং তাদের অন্য দুই ছেলে-মেয়ে। ধরা পড়েছেন ঐ নারীর বোন-ভগ্নিপতিও।
৬ সপ্তাহের মধ্যে আড়াই লাখ রুপি আয় করেছেন ঐ নারী। উৎসব বা বিয়ের মৌসুমে দুই সপ্তাহে ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত আয় হয়েছে তার।
মধ্য ভারতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় এবং সহজ ব্যবসা হয়ে উঠেছে ‘ভিক্ষাবৃত্তি’। শুধুমাত্র ইন্দোর শহরেই ৭ হাজারেরও বেশি ভিক্ষুক রয়েছে। তাদের সবারই আয়-রোজগার বেশ ভালো। এই ৭ হাজার ভিক্ষুকের মধ্যে শিশু সাড়ে তিন হাজারের মতো। সিগন্যালে গাড়ি থামলেই ঘিরে ধরে ভিক্ষুকের দল।
এদিকে ইন্দোররকে ভিক্ষুক মুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কর্মকর্তাদের তাগিদ দিয়েছেন জেলা কালেক্টর আশীশ সিং। তিনি বলেছেন, শিশুদের পুনর্বাসন করে স্কুলে পাঠানো উচিত।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া