ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘ম্যাজিক চা’ বিক্রি করে কোটিপতি দুলাল

শামীম আহমেদ, বরিশাল
প্রকাশিত: ১৯:১৪, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩
‘ম্যাজিক চা’ বিক্রি করে কোটিপতি দুলাল
দুলাল কাজীর চায়ের দোকান- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কোনো কাজই ছোট নয়। দৃঢ় মনোবল থাকলে যেকোনো কিছু করেই সফল হওয়া যায়। এটি প্রমাণ করেছেন বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন ৬ মাইল এলাকার চা বিক্রেতা দুলাল কাজী। চা বিক্রি করে তিনি এখন কোটিপতি। বর্তমানে তার মাসিক আয় লাখ টাকার উপরে।

আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে প্রথমে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ছোট একটি চায়ের দোকান দেন দুলাল কাজী। তার বানানো চায়ের সুস্বাদু চায়ের জন্য ধীরে ধীরে তার দোকানের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে পুরো বরিশালজুড়ে। ধীরে ধীরে ক্রেতা সমাগম বাড়তে থাকে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। চায়ের ব্যবসার পরিধিও বাড়তে থাকে।

বর্তমানে ‘ম্যাজিক চা’ নামে বড় দোকান রয়েছে তার। শুধু তা-ই নয়, তার দোকানের কর্মচারীর সংখ্যাও আছে অনেক। তার দোকানে গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে ভিন্ন স্বাদের চায়ের পাশাপাশি চালভাজা, বাদাম ও নাড়ু পাওয়া যায়।

Advertisement

প্রতিদিন অন্তত দেড় হাজার কাপ চা বিক্রি করেন দুলাল। প্রতিকাপ চায়ের দাম ৩০ টাকা। আর চায়ের সঙ্গে চালভাজা, বাদাম, তিল ও নারিকেলের তৈরি নাড়ুও বিক্রি করেন, যা প্রতিবাটি ২০ টাকা করে। দুলালের ম্যাজিক চায়ের দোকানে প্রতিমাসে ২২ লাখ টাকার উপরে বিক্রি হয়। আর বছর শেষে যার হিসেব গিয়ে দাঁড়ায় কোটি টাকার উপরে।

বরিশাল শহরতলির ৬ মাইল বাজারে অবস্থিত দুলাল কাজীর চায়ের দোকান। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চা প্রেমীদের ভিড় লেগে থাকে তার দোকানে। বসার জায়গা না হলে অনেক সময় দাঁড়িয়েও চা পান করতে দেখা যায় চা প্রেমীদের।

দুলাল কাজীর চায়ের দোকান চা প্রেমীদের ভিড়দুলাল কাজীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমদিকে তার চায়ের দাম ছিল প্রতিকাপ ৭ টাকা। তখন দিনে ৩০০-৩৫০ কাপ চা বিক্রি হতো। এখন তিনি ৩০ টাকা প্রতিকাপ চা বিক্রি করছেন।

দুলাল কাজী বলেন, এখন দিনে অন্তত দেড় হাজার কাপ চা বিক্রি হয়। তবে ঝড়বৃষ্টিতে বেচাবিক্রি একটু কম হয়। চা তৈরিতে প্রতিদিন দুধ লাগে ১৫০ লিটার। চায়ের দোকান দেওয়ার কিছুদিন পর ঢাকা থেকে কিছু মেহমান আসতেন। তারা চা পান করে স্বাদ পেয়ে মাসে চারবারও আসেন। পরে তারাই আমার দোকানের নাম ‘ম্যাজিক চা’ দিয়ে সাইনবোর্ড বানিয়ে দিয়েছেন।

তিনি জানান, চায়ের সঙ্গে দেওয়া চালভাজা, বাদাম, তিল ও নারিকেলের নাড়ু সবকিছুই হাতে তৈরি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এগুলো বাসায় তৈরি করা হয়। পরে বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে দোকানদারি। এক্ষেত্রে দু-একজন সহযোগী থাকলেও মূল কাজটা তিনি নিজেই করেন। এ চায়ের জাদু শুধু তার হাতেই। এটা আর কারো কাছে নেই বলেও জানান দুলাল কাজী।

এদিকে, শীতের প্রভাব চলে আসায় ম্যাজিক চায়ের পাশাপাশি ব্যবসায় যোগ করেছেন চালের রুটি ও হাঁসের মাংস। এর দাম জিজ্ঞেস করতেই দুলাল কাজী বলেন, প্রতিপ্লেট হাঁসের মাংস ২৫০ টাকা, সঙ্গে ৪ পিস চালের রুটি ফ্রি। এর বাইরে আরো লাগলে তার দাম দিতে হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!