সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতের দিকে প্রদেশটির ডেরা ইসমাইল খান জেলার চদওয়ান পুলিশ স্টেশনে হামলার এ ঘটনা ঘটে বলে পাকিস্তানি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন এক কমকর্তা।
পাকিস্তানে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর তিন দিন আগে এ হামলা চালানো হলো। গত কিছুদিনে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে নির্বাচনের আগে সেখানে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রার্থী ও দলীয় সমর্থকদের ওপরেও বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
.png)
খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান আখতার হায়াত গন্ডাপুর বলেন, ‘৩০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসী তিন দিক থেকে আক্রমণ শুরু করে এবং আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গোলাগুলি চলে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় ডেরা ইসমাইল খান জেলার চৌদওয়ান থানায় হামলায় ১০ কর্মকর্তা নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।’ খাইবার পাখতুনখোয়া সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তান তালেবান, আইএস এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে তারা নিরাপত্তা অবকাঠামোগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে এবং সেই সঙ্গে বেসামরিক লোকদেরও লক্ষ্য করে।
বার্তা সংস্থা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে হামলার সময় হামলাকারীরা অল্প সময়ের জন্য থানার নিয়ন্ত্রণ দখল করে নেয়।
গত সপ্তাহেও জাতিগত বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি স্থাপনায় হামলা চালালে কমপক্ষে ২৪ জঙ্গি নিহত হয় বলে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। হামলা ও পরবর্তী তল্লাশি অভিযানের সময় চার নিরাপত্তা কর্মী ও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। নিষিদ্ধ বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন গত সপ্তাহে বলেছে যে, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশে সহিংসতার কারণে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে এবং জানায়, ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে সারাদেশে হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হবে।
সূত্র: ডন নিউজ