সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বুলডোজার ব্যবহার করে স্থল অভিযানের সময় কবরস্থানগুলো ভেঙে দিয়েছে এবং এমনকি কবর থেকে কিছু মৃতদেহ বের করেছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কবরস্থানের মতো ধর্মীয় স্থানগুলোকে ধ্বংস করা এবং তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, যা যুদ্ধাপরাধ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।
.png)
স্যাটেলাইট ইমেজ এবং ভিডিওগুলোর বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে সিএনএন বলেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কবরস্থানকে সামরিক ফাঁড়ি হিসাবে ব্যবহার করেছে বলে মনে হচ্ছে। কেননা বুলডোজারগুলো বেশ কয়েকটি কবরস্থানকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে।
একজন ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন, তারা গাজায় কিছু কবর খনন করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের সেখানে কবর দেওয়া হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
তিনি আরো অভিযোগ করেছেন, কবরস্থানগুলো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিল হামাস, সুতরাং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আনাদোলুকেও নিশ্চিত করেছে, তারা মরদেহ তোলার জন্য গাজায় কিছু কবর খুড়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এদিন ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস যোদ্ধারা। তারপর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। পরে ২৮ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও।
প্রায় তিন মাস ধরে ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলায় গাজার হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে, যা গত ৭৫ বছরে ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক সংঘর্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মাঝে এক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতিতে ২৪ বিদেশিসহ মোট ১০৫ জনকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ২৪০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৭১ জন মহিলা এবং ১৬৯টি শিশু রয়েছে।