সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন মুক্তিপ্রাপ্ত ইসরায়েলি জিম্মি বলেছেন যে, গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের সময় হামাস যোদ্ধারা তাকে রক্ষা করেছিল।
৪৮ বছর বয়সী চেন গোল্ডস্টেইন-আলমোগ, তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে আগম গোল্ডস্টেইন-আলমোগ, ছোট ছেলে ১১ বছরের গাল ৯ বছরের তাল গত ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে জিম্মি হন।
.png)
গত মাসে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি চুক্তির অধীনে চারজনকে মুক্ত করা হয়েছিল। ওই সময় ২৪০ ফিলিস্তিনির মুক্তির বিনিময়ে ৮১ ইসরায়েলি এবং ২৪ জন বিদেশিকে মুক্তি দেয় হামাস।
চেন গোল্ডস্টেইন জানান যে, তারা একটি সুপারমার্কেটের পেছনে কোথাও অবস্থান করছিলেন। সেই সময় কাছেই বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।
তিনি বলেন, 'অপহরণকারীরা আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে রক্ষা করেছিল। তারা আমাদের ঘিরে রেখেছিল। আমরা তাদের কাছে খুব মূল্যবান ছিলাম।
ইসরায়েলি ওই নারী হামাস যোদ্ধাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে কি না। তখন হামাস যোদ্ধারা বলেছিল- আপনাদের আগে আমরা মরবো।
তার মেয়ে আগম বলেন, নেতানিয়াহু হামাসকে উৎখাত করতে চেয়েছিলেন। আমাদের মনে প্রশ্ন ছিল যে- ইসরায়েলি বাহিনী যদি হামাসের সদস্যদের হত্যা করে তাহলে আমাদের কী হবে।
তিনি বলেন, আমরা সেখানে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি। আমরা বন্দী না হলে আমাদের নিজেদের বাহিনীর আগুনে আমরা নিহত হতাম।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ১৫ ডিসেম্বর স্বীকার করে যে, তাদের বাহিনী ভুলবশত উত্তর গাজায় তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে হত্যা করেছে। প্রায় ১৩০ ইসরায়েলি জিম্মি এখনও গাজায় হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি উপদলের কাছে বন্দী রয়েছে বলে মনে করা হয়।
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের ওইদিনের নজিরবিহীন হামলায় ১৪০০ জন নিহত হয়েছে বলে ইসরায়েল প্রথমে জানিয়েছিল। পরে নিহতের সংখ্যা ১২০০ বলে জানায় তারা। এখন হিসাব আরো সংশোধন করে ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা ১১৪৭ জন আর আহত ৮৭৩০ বলে জানিয়েছে।
নিহদের মধ্যে বেশিরভাগ বেসামরিক হিসেবে ইসরায়েল উল্লেখ করলেও হামাস জানিয়েছে, তাদের হাতে নিহত ইসরায়েলিদের সবাই নিরাপত্তাকর্মী। আর সাধারণ মানুষদের ইসরায়েলি বাহিনীই হত্যা করেছে।
অক্টোবর থেকে কার্যত গাজার বেশিরভাগ এলাকা গুড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। স্থল, আকাশ ও জলপথে তীব্র আক্রমণ করছে দখলদার ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত গাজায় ২০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বলা বাহুল্য, তাদের প্রায় সবাই বেসামরিক ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে ৮ হাজারের বেশি শিশু এবং বাকিদের বেশিরভাগই নারী।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার সম্ভাব্য ২৪ লাখ মানুষের বেশিরভাগই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সর্বাত্মক অবরোধের কারণে লাখ লাখ মানুষ নানামুখী সংকটের মুখোমুখী হয়েছে। খাবার নেই, পানি নেই। তীব্র শীতে সামান্য বাসস্থানটুকুও নেই। যেটুকু সাহায্য মিশরের রাফাহ ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।