সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে হামাসের সামরিক বাহিনী আল-কাসেম ব্রিগেড নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক মিনিটের ভিডিওটি প্রকাশ করেছে।
‘ডোন্ট লেট আস গ্রো ওল্ড হিয়ার (এখানে আমাদের বৃদ্ধ হতে দিও না)’ শিরোনামের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিন ইসরায়েলি বৃদ্ধ একটি অজ্ঞাত স্থানে বসে রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে একজন কথা বলছেন। তিনি হিব্রু ভাষায় বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগতে থাকা বেশ কয়েক ব্যক্তির সাথে তিনি আটক রয়েছেন যাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা অত্যন্ত বিপর্যয়কর।
.png)
ইসরায়েলি বন্দি বলেন, আমরা হচ্ছি সেই প্রজন্মের মানুষ যারা ইসরায়েল সৃষ্টির সাথে জড়িত ছিলাম। আমরাই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গোড়াপত্তন করেছি। আমরা বুঝতে পারছি না আমাদেরকে কেন এখানে ফেলে রাখা হয়েছে।
তিনি ইসরায়েল সরকারকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, আমাদেরকে এখান থেকে মুক্ত করে নাও। এর জন্য কী দাম দিতে হয় সেটি মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা এখানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় মারা যেতে চাই না। আমাদেরকে নিঃশর্তভাবে মুক্ত করে নাও। ভিডিওর শেষাংশে তিন ব্যক্তি একসাথে বলে ওঠেন, ‘আমাদেরকে এখানে বৃদ্ধ হয়ে যেতে দেবেন না।’
সোমবার রাতের ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ওই তিন পণবন্দির পরিচয় প্রকাশ করেছে। তাদের মধ্যে ৭৯ বছর বয়সী যিনি কথা বলেছেন তার নাম চাইম পেরি। অপর দু’জন ইয়োরাম মেতজগার (৮০) এবং আমিরাম কুপার (৮৪)।
গত ৭ অক্টোবর হামলার পর ২৪০ বন্দির মধ্যে এই তিনজনও ছিল। যদিও গত মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে বন্দিদের প্রায় অর্ধেককে ছেড়ে দেওয়া হয়ছে। কিন্তু মুক্তি পাননি এই তিন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা।
এদিকে ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর হামাসের হাতে আটক বন্দিদের পরিবারবর্গের সদস্যরা তাদের আন্দোলন আরো জোরদার করেছেন। তেল আবিবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটকারী আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে তাদের বন্দিদের মুক্ত করে নেয়ার জন্য আরো জোর গলায় দাবি জানাতে শুরু করেছেন।
ইসরায়েলি সেনা মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারি হামাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ভিডিওটিকে ‘অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী ভিডিও’ বলে বর্ণনা করেছেন। এর আগে হামাসের এ ধরনের ভিডিওকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেছে তেল আবিব।
সূত্র: আল-জাজিরা