আনাদোলু এজেন্সির সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আল-সাবরা পাড়ার আলি বিন আবি তালিব এবং আল-ইস্তিজাবাহ মসজিদে বোমাবর্ষণ করে। বেসামরিক অবস্থান ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইসরায়েলের অব্যাহত আক্রমণের মধ্যে এই ধ্বংসলীলা সংঘটিত হয়।
সর্বশেষ ইসরায়েলি হামলার মধ্যে রয়েছে উত্তর গাজা শহরের বাস্তুচ্যুত লোকদের একটি স্কুলের আবাসনে হামলা, দু’টি অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ এবং চারটি হাসপাতালের আশেপাশে হামলা করা। এর ফলে অনেক ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছে।
.png)
উপরন্তু, পূর্ব রাফাহ অঞ্চলের একটি সরকারি জলাধারেও হামলা করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকায় ব্যাপক বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে।
এখন পর্যন্ত ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৯ হাজার ৪৮৮ জন ফিলিস্তিনি এবং ১,৫৩৮ জনেরও বেশি ইসরায়েলি রয়েছে।
এ বিষয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তিন হাজার ৯০০ জনই শিশু। এছাড়া নিহতদের মধ্যে দু’হাজার ৫০৯ জন নারী আছে। বর্বর ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ২৪ হাজার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা গাজা সিটিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের ৭০ শতাংশ শিশু, নারী ও বয়স্ক মানুষ।’
তিনি বলেন, গাজায় ১,২৫০ শিশুসহ প্রায় দুই হাজার ২০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এসব মানুষের অধিকাংশই মৃত এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়ার বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে। তার বাড়িটি গাজার আশ-শাতি শরণার্থী শিবিরে অবস্থিত। ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, তাদের এ ধরনের হামলা ও গণহত্যা থেকে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে তারা অত্যন্ত কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়েছে। আমেরিকার সবুজ সংকেতেই এসব হচ্ছে।
হামাস প্রধান বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের বর্বর গণহত্যার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয় যে দখলদার সেনারা গাজা উপত্যকায় আটকে গেছে। পাশাপাশি তিনি আরব বিশ্বসহ পৃথিবীর সমস্ত মুক্তিকামী মানুষকে ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর আহ্বান জানান।