ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা গাজার বৃহত্তম হাসপাতালের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৪৪, ৩ নভেম্বর ২০২৩
মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা গাজার বৃহত্তম হাসপাতালের
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতালে জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় বিদুৎহীন হওয়ার পথে রয়েছে।

হাসপাতালটির চিকিৎসক ডা. ঘাসান আবু-সিত্তাহ সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেছেন, ‘আল শিফা বর্তমানে এমন পরিস্থিতিতে এসে পৌঁছেছে এবং শিগগিরই বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলে এই হাসপাতাল মৃত্যুপুরীতে রূপ নেবে।’

তিনি বলেন, ‘যদি ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীদের ভেন্টিলেটর না চলে, গুরুতর আহত রোগীদের যদি অপারেশন না করা যায়, যদি ডায়ালিসিস মেশিন চালু না থাকে— তাহলে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে এখানে এসে মরা ছাড়া রোগীদের সামনে আর কোনো বিকল্প থাকবে না।’

Advertisement

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত ও ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের অতর্কিত হামলার জবাবে ওই দিন থেকেই উপত্যকায় অভিযান শুরু করে দখলদার ইসরায়েলের বিমান বাহিনী (আইএএফ)। গাজার বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

আইএএফের বিমান অভিযান শুরুর ২ দিন পর ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক গোলাবর্ষণের কারণে গাজা ও মিসরের সীমান্তপথ রাফাহ ক্রসিং বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় মিসর। গাজার অন্যান্য সীমান্তপথ ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে থাকায় উপত্যকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের জন্য এই সীমান্তপথটি ‘লাইফ লাইন’ নামেও পরিচিত। গাজার বাসিন্দাদের খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানিসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের চালান আসত এই সীমান্তপথ দিয়েই।

প্রায় দু’সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যস্থতায় রাফাহ ক্রসিং দিয়ে খাদ্য, চিকিৎসা উপকরণ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রীবাহী ট্রাক ঢোকা শুরু করলেও জ্বালানি তেলের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় ইসরায়েল। ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হয়, গাজায় জ্বালানি তেল প্রবেশ করতে দিলে তা হামাস চুরি করে নিজেদের কাজে লাগাবে।

এদিকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে গাজার একমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। উপত্যকার প্রায় সব হাসপাতালেও চিকিৎসাসেবা প্রদান একরকম বন্ধ রয়েছে।

ডা. ঘাসান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে দু’টি জেনারেটর ছিল। জ্বালানি তেলের অভাবে কয়েকদিন আগে একটি বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী দুই কিংবা তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়টিও বন্ধ হয়ে যাবে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!