এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসের শেষের দিকে রাশিয়ায় সামরিক বিদ্রোহ তৈরির চেষ্টা করেছিল ওয়াগনার গ্রুপ। কিন্তু ঐ বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত বেশি কিছু করতে পারেনি। এরপর ঐ সময় পুতিন প্রিগোজিনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওয়াগনার বাহিনীর শীর্ষকর্তারা।
সংবাদমাধ্যমের দাবি, ঐ বৈঠকেই ওয়াগনার গোষ্ঠীর মাথায় আন্দ্রেইকে বসানোর প্রস্তাব দেন পুতিন।
.png)
এককালে পুতিন-ঘনিষ্ঠ প্রিগোজিনের বদলে তার জায়গায় যিনি বসতে চলেছেন সেই আন্দ্রেইয়ের পরিচয় কী? ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাশিয়ার ওপর বিধিনিষেধের নথি থেকে জানা গেছে, তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে ‘সেদোয়’ বা ‘ধূসর চুন’ নামে পরিচিত। আন্দ্রেই রাশিয়ার সেনার একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল। ওয়াগনার গোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।
১৯৫৩ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে জন্ম আন্দ্রেইয়ের। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধিনিষেধের নথি বলছে, সিরিয়ায় ওয়াগনার বাহিনীর ‘চিফ অফ স্টাফ’ নিযুক্ত ছিলেন তিনি। সেখানে বাশার আল-আসাদ সরকারকে সাহায্য করেছিল ওয়াগনার বাহিনী। সিরিয়ার দেই এজ-জোর এলাকায় সক্রিয় থাকতেন আন্দ্রেই।
ওয়াগনার বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তার। এই বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা দিমিত্রি উটকিন, কমান্ডার আলেকজান্ডার সার্গিভিচ কুজনেৎসোভ, আন্দ্রে বোগাতোভের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রয়েছে তার। দিমিত্রি সেনার গুপ্তচর বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। রাশিয়ার যে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তাদের মধ্যে রয়েছেন আন্দ্রেই।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার নথিতে যুক্তরাষ্ট্র লিখেছে, আন্দ্রেই ওয়াগনার বাহিনীর একজন শীর্ষকর্তা। তিনি সিরিয়ার যুদ্ধে আসাদকে সাহায্য করেছিলেন। সিরিয়ার সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করেছিলেন।
সিরিয়া যুদ্ধের আগে আরো বেশ কিছু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন আন্দ্রেই। আফগানিস্তানের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধের সময় আফগান মাটিতে ছিলেন তিনি। বিদ্রোহী চেচেনদের সঙ্গে যুদ্ধেও রুশ সেনার হয়ে লড়েছেন। রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বাহিনী এসওবিআর এর কমান্ডার হিসাবেও কাজ করেছেন আন্দ্রেই।