
তারপর গুহার ভিতর যাওয়ার রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে কেউই এর আকার সম্পর্কে ধারণা করতে পারেননি। কিন্তু এর ভিতর যত ঢোকা গেল, ততই এর রহস্য উন্মোচিত হতে লাগল। এখনও অবধি প্রায় ২২২ কিলোমিটার গুহাপথ আবিস্কৃত হয়েছে। তবে এই বিশাল আকারই গুহার সবথেকে বড় রহস্য নয়। এই গুহার ভিতরের দেওয়ালে নিজ থেকেই তৈরি হওয়া নির্মাণশৈলী বিস্ময় তৈরি করেছে গবেষকদের মধ্যে।
.png)

বিভিন্ন রকম নকশার ক্রিস্টালে মোড়া রয়েছে এই গুহার ভিতর। এর কোনওটা দেখতে বিশালাকার ফুলের মতো, তো কোনওটা প্রাসাদের থামের মতো। এই ক্রিস্টালগুলো তৈরি হয়েছে জিপসাম থেকে। জিপসাম একটি খনিজ লবন যা চুনাপাথর থেকে তৈরি হয়।

গুহাতে জিপসামের সজ্জা মাইলের পর মাইল বিস্তৃত। গুহার মধ্যে কী ভাবে তৈরি হল এই জিপসামের ক্রিস্টাল? পৃথিবীর বেশিরভাগ গুহা বৃষ্টির পানি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সৃষ্টি। কিন্তু লেচুগুইলা গুহার পাথরের ক্ষয় হয়েছে মূলত সালফিউরিক অ্যাসিড দ্বারা।

সালফিউরিক অ্যাসিড চুনাপাথরে দ্রবীভূত হয়ে তৈরি হয় জিপসাম। সেই জিপসামই প্রাকৃতিক ভাবে সজ্জিত তৈরি হয়েছে এই চোখ ধাঁধানো ক্রিস্টালগুলি। এই গুহার ভিতরে আপনা থেকেই তৈরি হয়েছে একটি কক্ষ। যার নাম দেওয়া হয়েছে শ্যান্ডেলিয়ার বলরুম। সেখানকার জিপসাম পিলারগুলির দৈর্ঘ্য ২০ ফুটেরও বেশি। এভাবেই সূর্যের আলো ঢুকতে না পারা গুহার ভিতরের সৌন্দর্য পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র।