১৯৭৭ সালের পর এবারই প্রথম যুক্তরাজ্যে খাদ্যপণ্যের দাম সবচেয়ে আকাশচুম্বী। এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আমদানি ব্যাহত হওয়ায় ব্রিটেনের নাগরিকরা তাজা সবজির ঘাটতির মুখোমুখিও হতে পারেন।
এদিকে উত্তর আফ্রিকায় ফসলের উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাবেই ব্রিটেনে খাদ্যশস্য ও সবজি সরবরাহ কমে গেছে। গত কয়েক সপ্তাহে ব্রিটিশ ক্রেতারা টমেটো, শসা এবং মরিচের ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছেন।
.png)
ব্রিটেনের কর অফিসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ২ লাখ ৬৬ হাজার ২৭৩ টন সবজি আমদানি করেছে ব্রিটেন, যা ২০১০ সালের পর যেকোনও জানুয়ারি মাসের আমদানির হিসেবে সবচেয়ে কম ছিল। যদিও দেশটির জনসংখ্যা এখনকার তুলনায় সেই সময় প্রায় ৭ শতাংশ কম ছিল।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে, চলতি বছর যুক্তরাজ্যে সালাদের বিভিন্ন ধরনের উপাদানের উৎপাদন রেকর্ড সর্বনিম্নে নামতে পারে। ব্যয়বহুল জ্বালানির কারণে ব্রিটিশ উৎপাদকরা গ্রিনহাউসে ফসল রোপণে বাধা পাওয়ায় উৎপাদন হ্রাস হওয়ার এ শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাজার গবেষক কান্তারের শিল্প তথ্য-উপাত্তে মঙ্গলবার দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে গত চার সপ্তাহের মধ্যে মুদিপণ্যের মূল্যস্ফীতি রেকর্ড সাড়ে ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। মূল্যস্ফীতির এই রেকর্ড দেশটির নীতিনির্ধারকদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রাহকরা বেশি খরচ করতে পারবেন না জেনে যুক্তরাজ্যের অনেক খুচরা খাদ্য বিক্রেতা এখন দোকানের জন্য কম পরিমাণে মালামাল ক্রয় করছেন। যা তাদের লাভের ওপর আঘাত হানছে। ব্রিটিশ গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জ্যাক ওয়ার্ড বলেছেন, ব্রিটেনের তাজা খাদ্য উৎপাদকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
যুক্তরাজ্য সাধারণত মার্চ মাসে চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ টমেটো আমদানি করে। তবে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ আমদানির পরিমাণ ৪০ শতাংশে নেমে আসে।
গত বছর ব্রিটনের সুপারমার্কেটগুলো রেশনিং পদ্ধতিতে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এ বছর খাদ্য ঘাটতির এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ব্রিটেনের আপেল ও নাশপাতি চাষীরাও বলেছেন, বাগান রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পর্যাপ্ত গাছ লাগানো যাচ্ছে না। যদিও দেশটির সরকার ও সুপারমার্কেটগুলো বলেছে, তারা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। সূত্র: রয়টার্স।