এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধ করা উচিত বলে সতর্ক করে দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।
দ্য কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় উত্তর কোরিয়ার নতুন ড্রোনটি ৮০ থেকে ১৫০ মিটার (২৬০-৫০০ ফুট) গভীরতায় ৫৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পানির নিচে ভ্রমণ করে এবং বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের পানিতে অ-পারমাণবিক পেলোড বিস্ফোরণ ঘটায়।
.png)
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজেদের বৈচিত্র্যময় পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শন করছে উত্তর কোরিয়া। যদিও পিয়ংইয়ং এখনো সন্দিহান যে, পরীক্ষার পরও ওই ডুবো যানটি হামলা বা প্রতিরক্ষার জন্য আসলেই প্রস্তুত কিনা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’র সিনিয়র ফেলো অঙ্কিত পান্ডা বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়া এই সংকেত দিতে চায় যে, কোনো যুদ্ধ বাঁধলে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে মিত্রদের উদ্বিগ্ন হতে হবে এবং এর লক্ষ্যবস্তুও হবে বিশাল।’
আরো পড়ুন>> ব্রাজিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত
তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া বৈচিত্র্যময় পারমাণবিক সক্ষমতার মধ্যে সাইলোস, রেলওয়ে কার, সাবমেরিন এবং সড়কে ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার থাকবে। এবং এখন তারা এই আন্ডারওয়াটার টর্পেডো নিজেদের বহরে যোগ করছে।’
কেসিএনএ জানিয়েছে, ‘হাইল’ বা সুনামি নামে পরিচিত উত্তর কোরিয়ার নতুন এই ড্রোন সিস্টেমটি পানিতে লুকিয়ে শত্রুর ওপর আক্রমণ করা এবং পানির নিচে বিস্ফোরণের মাধ্যমে বড় তেজস্ক্রিয় তরঙ্গ তৈরি করে নৌবাহিনীর স্ট্রাইক গ্রুপ ও প্রধান অপারেশনাল বন্দরগুলোকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
কিম জং উন এই পরীক্ষাটি তত্ত্বাবধান করেছেন জানিয়ে উত্তর কোরিয়ার এই সরকারি সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ‘এই পারমাণবিক আন্ডারওয়াটার অ্যাটাক ড্রোনটি যে কোনো উপকূল এবং বন্দরে মোতায়েন করা যেতে পারে বা অপারেশনের জন্য জাহাজ দিয়ে টেনে নেয়া যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া গত বছর প্রায় ৭০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। যার মধ্যে আটটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। দেশটির ইতিহাসে যা এক বছরে সবচেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর রেকর্ড।
সূত্র: আল-জাজিরা