ইফতারের সময় মোট আটটি কামান থেকে গোলা ছোড়া হবে। বিভিন্ন স্থানে সাতটি কামান স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে। একটি কামান থাকবে ভ্রাম্যমাণ। এটি রমজানজুড়ে দুবাইয়ের ১৫টি এলাকায় ভ্রমণ করবে। এ কামানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অপারেশনস অ্যাফেয়ার্সের সহকারী কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল আল-গাইথির জানান, কামান থেকে গোলাবর্ষণের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে এবং কর্মীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বছরে দুবাই এক্সপো সিটি, বুর্জ খলিফা, আপটাউন, মদিনাত জুমেইরাহ, ফেস্টিভাল সিটি, দামাক ও হাত্তা ইনে সাতটি কামান স্থাপন করেছে দুবাই পুলিশ। অন্যটি পুরো রোজায় ১৫টি স্থানে ঘুরে ঘুরে দায়িত্ব পালন করবে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে-সাতোয়া গ্র্যান্ড মসজিদ, দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার, জাবিলের গ্র্যান্ড মসজিদ, লুসাইলির আল-নাহদা স্কুল ফর গার্লস, আল-হাবাব মসজিদ, আল-আবির গ্র্যান্ড মসজিদ, আল-খাওয়ানিজের আল-হাবাই মসজিদ, আল-তোয়ারের বিন দাফুস মসজিদ, আল-কুওজ ৪ ‘আল-খাইল হাইটস’ এলাকায়, মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম সিটি, আইন দুবাই, আল-বার্শার আল-সালাম মসজিদ এবং জুমেইরার কাইট বিচ, নাদ আল শেবা মসজিদ ও মানখুলের ঈদের নামাজের হল।
.png)
প্রতিদিন ইফতারের সময় একটি করে গোলা নিক্ষেপ করা হবে। এছাড়া রমজান মাসের সূচনা এবং ঈদের চাঁদ দেখা গেলে আরও দুটি গোলা ছোড়া হবে। কামানের গোলা নিক্ষেপের মাধ্যমে ইফতারের সময় জানানোর এ কার্যক্রম সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি জনপ্রিয় সংস্কৃতি হিসাবে পরিচিত। এ কার্যক্রম দুবাই টিভিতেও সম্প্রচারিত করা হবে।
আরো পড়ুন>> যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন পুনর্গঠনে খরচ হবে ৪১১ বিলিয়ন ডলার
রমজান মাসের ‘ইফতার কামানগুলো’র কমান্ডার মেজর আবদুল্লাহ তারিশ আল আমিমি বলেছেন, দুবাই পুলিশের কমান্ডার-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল্লাহ খলিফা আল মারির নির্দেশ অনুসারে অন্য কামানগুলোর সঙ্গে আরো দুটি পুরোনো ফরাসি কামানও ইফতারির সময় জানান দেবে। কামান দুটি গত শতাব্দীর ষাটের দশকে প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৯৭০ সালে সেগুলোকে দুবাই পুলিশ জাদুঘরে রেখে দেওয়া হয়েছিল।
দুবাইয়ের ডিপার্টমেন্টের নিরাপত্তা সচেতনতা বিভাগের পরিচালক বুট্টি আল ফালাসি বলেন, দুবাই পুলিশ রমজানে কামানের গোলা ব্যবহার করে ইফতারের সময় জানানোর প্রতি খুবই আগ্রহী। কারণ এটি আমিরাতে পবিত্র রমজান মাসের অন্যতম প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হয়। এছাড়াও আরবের ইসলামিক রীতিনীতি ও ঐতিহ্যকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমাজে সংস্কৃতি। তিনি আরো বলেন, ইফতারের সময় কামান উৎক্ষেপণের কার্যক্রম দুবাই টিভিতে সম্প্রচার করা হয়।
কিছু ইতিহাসবিদের মতে, ১০ম শতকে মিশরে প্রথম এই প্রথাটি শুরু হয়েছিল। সেসময় মুসল্লিদের ইফতারের সময় জানাতে কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হতো। আর দুবাইতে এই প্রথা শুরু হয় ১৯৬০ এর দশকে। আমিরাতের এসব কামান ১৯৪৫ সালে ব্রিটেনে তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
সূত্র: খালিজ টাইমস