ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

জাপানে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘দূরবাসী বিয়ে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:২৩, ১৩ মার্চ ২০২৩
জাপানে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘দূরবাসী বিয়ে’
সংগৃহীত ছবি

জাপানের সমাজব্যবস্থায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এক অভিনব দাম্পত্যরীতি ‘দূরবাসী বিয়ে’। ইংরেজিতে সেপারেশন ম্যারেজ। জাপানের ভাষায় সোটসুকন। খবর গ্লোবাল নিউজের।

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জীবন এবং মূল্যবোধের প্রতি সম্মান রেখে একটি স্বাধীন জীবন অতিবাহিত করতে বেছে নিচ্ছেন বিবাহের এই নতুন ধরণ। যেখানে উভয়ের সম্মতিতে আলাদা বাড়িতে বসবাস করেন। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই ‘দূরবাসী বিয়ে’ ডাল-পালা ছড়াচ্ছে রাজধানী টোকিওসহ জাপানের বেশ কয়েকটি বড় বড় শহরেও। 

এটি বিয়ের এমন একটি রূপ যেখানে একটি দম্পতি আইনত বিবাহিত কিন্তু পৃথকভাবে বসবাস করে। তারা সপ্তাহান্তে ছুটির দিনে বা কিছু দিন পরপর একে অপরের সঙ্গে দেখা করেন। এক সঙ্গে থাকেন। অর্থাৎ প্রচলিত নিয়মের বাইরে পারস্পরিক সম্মতিতে ভালো বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্যই ইচ্ছাকৃতভাবে আলাদাভাবে বসবাস করা। 

এই বিয়ের বড় সুবিধা হলো দম্পতিরা সঙ্গীর জীবনের ছন্দ নিয়ে চিন্তা না করে নিজের মতো একা সময় কাটাতে পারেন। দ্বিতীয়ত আর্থিক সংকট। উচ্চ জীবনমানের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে না পেরে সংসার পাততে ভয় পান। একপর্যায়ে তারাই বেছে নিচ্ছেন ঝামেলাহীন ‘দূরবাসী বিয়ের’ সুখ।

Advertisement

কারণ তারা তাদের কাজে আরো বেশি সময় দিতে চায়। একে অপরকে যতই ভালোবাসুক না কেন, এক সঙ্গে থাকতে গেলে মূল্যবোধের পার্থক্য ঘটতে বাধ্য- শুধুমাত্র এই আশঙ্কা থেকেই এ ধরনের বিয়েতে ঝুঁকছেন অনেকেই। দূরবর্তী বিয়ে সম্পর্কে টোকিওতে আন্তর্জাতিক নারী ও পরিবারের জন্য একটি অনলাইন গাইডের পরিচালক স্যাভি টোকিও তার ওয়েবসাইটে বলেন, বিয়ের পর দম্পতিদের নিজেদের স্থান তৈরি করার একটি সহজ উপায়। যাতে সহজেই তারা পূর্বের জীবনধারায় ফিরে যেতে পারে। তারা এমন একটি আনুষ্ঠানিক সংযোগ রাখে যেন বৃদ্ধ বয়সে দেখাশোনার জন্য আবার একসঙ্গে বসবাস করতে পারে। 

তিনি আরো বলেন, এই ব্যবস্থার মূল দিক হলো এটি দম্পতিদের একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও নমনীয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

টরন্টো ফ্যামিলি থেরাপির থেরাপিস্ট এবং ক্লিনিকাল ডিরেক্টর জোয়ানা সিডেল গ্লোবাল নিউজকে বলেন, বিয়ের পর একসাথে থাকা বা না থাকার জন্য আমাদের চিন্তা-ভাবনা আরও উন্মুক্ত হওয়া উচিত। বলেন, তিনি অনেক দম্পতিকে দেখেছেন যারা মিশ্র পরিবার হিসাবে বসবাস করার পরিবর্তে আলাদাভাবে বসবাস এবং সন্তানদের পৃথকভাবে বড় করার সিদ্ধান্ত বেছে নিয়েছেন। 

তিনি বলেন, বর্তমানে কানাডার অনেক দম্পতি বিয়ে না ভেঙে পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যে আলাদা থাকার ব্যবস্থা বেছে নিয়েছে। এ ছাড়াও অনেককে আলাদা থাকতে হয় কারণ তারা বিভিন্ন শহরে কাজ করে। এমন চাকরিও রয়েছে যার জন্য তাদের সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় শহরের বাইরে থাকতে হয়। অর্থের অভাবে ইচ্ছে থাকলেও সঙ্গীকে নেওয়া যায় না। 

এতে দেশটিতে পরিবার প্রথা টিকানো নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। যদিও দেশটির সিভিল কোডের অনুচ্ছেদ ৭৫২ স্পষ্টভাবে বলা আছে, স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকবে। একে অপরকে সহযোগিতা করবে, সমর্থন করবে। তবু টিকছে না সংসার। 

সূত্র: গ্লোবাল নিউজ

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!