ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

দেশভাগের ৭৫ বছর পর মুসলিম বোনের সঙ্গে শিখ ভাইদের দেখা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:৫১, ২৮ মে ২০২২
দেশভাগের ৭৫ বছর পর মুসলিম বোনের সঙ্গে শিখ ভাইদের দেখা
ছবি: দুই ভাইয়ের সঙ্গে মমতাজ বিবি

১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের সময় সহিংসতার মুখে পরিবার ছেড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান ছোট্ট মমতাজ। শিখ পরিবারে জন্ম নেয়া শিশু মমতাজের ঠিকানা হয় পাকিস্তানে। তাকে দত্তক নেন এক মুসলিম দম্পতি। অবশেষে দীর্ঘ ৭৫ বছর পর মমতাজ তার হারিয়ে যাওয়া ভাইদের খুঁজে পেয়েছেন।

বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কর্তারপুরে ভারত থেকে আসা নিজ ভাইদের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশভাগের সময় সহিংস আন্দোলনে প্রাণ হারান মমতাজের মা। তখন মমতাজ দুধের শিশু। মৃত মায়ের ওপর পড়ে ছিল ছোট্ট শিশুটি।

মুহম্মদ ইকবাল এবং আল্লাহ রাখি নামে এক দম্পতি শিশুকন্যাটিকে দত্তক নেন এবং তাকে তাদের নিজের মেয়ে হিসেবে বড় করেন। তারাই তার নাম রাখেন মমতাজ বিবি।

দেশভাগের পর ইকবাল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শেখুপুরা জেলার ভারিকা তিয়ান গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। ইকবাল ও তার স্ত্রী মমতাজকে বলেনি যে সে তাদের মেয়ে নয়।

এদিকে দুই বছর আগে, ইকবালের স্বাস্থ্যের হঠাৎ অবনতি হয়। তখন তিনি মমতাজকে সব খুলে বলেন। মমতাজ যে তার আসল মেয়ে নন এবং সে শিখ পরিবারের সদস্য সেটাও বলেন ইকবাল।

আরো পড়ুন>> বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র বিক্রি, সেনাসহ ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড

এদিকে পালক পিতা ইকবালের মৃত্যুর পর মমতাজ ও তার ছেলে শাহবাজ মিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁজা শুরু করে। পালক পিতার কাছ থেকেই মমতাজ তার আসল বাবার নাম জানতে পেরেছিলেন। এমনকি পাটিয়ালা জেলায় তাদের বাসস্থানের ঠিকানাও জানতে পারেন মমতাজ।

এসব সূত্র ধরে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দুই পরিবার মিলিত হয়। পরবর্তীকালে, মমতাজের ভাই গুরুমিত সিং, নরেন্দ্র সিং এবং অমরিন্দর সিং, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কর্তারপুরের গুরুদ্বার দরবার সাহিবে যান এবং ছোট্ট বেলায় হারিয়ে যাওয়া আদরের বোনের সঙ্গে দেখা করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের ওই দেশভাগের ফলে ভারত ও পাকিস্তান - এই দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের বাইরে পৃথিবীর ইতিহাসে সে সময় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে হয়েছিল।

এক হিসেবে বলা হয়, দেশভাগের সময় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ শরণার্থী হন। এছাড়াও সেসময় সংঘটিত ধর্মীয় দাঙ্গায় নিহত হয় পাঁচ থেকে ১০ লাখ মানুষ।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!