৬ বছর ধরে স্বামীর খাবারে ওষুধ মিশিয়ে গ্রেফতার স্ত্রী
স্বামী বলেছিলেন, সব সম্পত্তি ভাই এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দিয়ে যাবেন। সেই আশঙ্কা থেকেই তার খাবারে নিয়মিত ওষুধ মেশাতেন স্ত্রী। বুঝতে পেরে পুলিশেকে অভিযোগ জানান স্বামী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। সম্প্রতি ভারতের কেরালা রাজ্যের কোট্টায়াম জেলার পালা শহরে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে, ২০০৬ সালে সতীশ সুরেশের সঙ্গে বিয়ে হয় আশার। সেই সময় নিজের ব্যবসা নিয়ে লড়াই চালাচ্ছিলেন সতীশ। সেই ব্যবসা থেকে যা আয় হত, তাতে কোনোমতে সংসার চালাতেন তিনি। কিন্তু আইসক্রিম ব্যবসা শুরু করার পর তার অবস্থা ভাল হতে শুরু করে। ২০১২ সালে তারা একটি বাড়ি কেনেন।
সতীশের অভিযোগ অনুযায়ী, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আশা তার সঙ্গে অশান্তি করতেন। কিছু দিন যেতেই সতীশ লক্ষ করেন, তিনি অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গেলে তিনি জানান, এর কারণ সুগার হতে পারে। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরও তার ক্লান্তি কাটে না।
আরো পড়ুন: অন্ধ্রপ্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৯
২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সতীশ বাড়ির খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেন। দেখা যায়, তার ক্লান্তিভাব কেটে গেছে। কাজের সময় ঝিমুনিও লাগছে না। তখন সন্দেহ হয় স্ত্রীর উপর। স্ত্রী আশাই কি তার খাবারে কিছু মেশাচ্ছেন?
এ ব্যাপারে সতীশ সাহায্য নেন তার এক বন্ধুর। বন্ধুকে সমস্ত ঘটনা জানিয়ে সতীশ বলেন, তার স্ত্রী খাবারে কিছু মেশাচ্ছেন কি না তা জানতে।
ওই বন্ধু তার স্ত্রীর কাছে কৌশলে বিষয়টি জানতে চাইলে, আশা জানান তিনি সতীশের খাবার ও পানিতে নিয়মিত ওষুধ মেশান। ওই বন্ধুর হোয়াটাসঅ্যাপে আশা সেই সব ওষুধের ছবিও পাঠান। এই তথ্য জানার পরই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন সতীশ। ঘরের মধ্যে বসানো সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশকে দেন তিনি। এই অভিযোগে ভিত্তিতে আশাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে আশা জানিয়েছেন, একদিন বচসার সময় সতীশ বলেন, সমস্ত সম্পত্তি তার পরিবার ও ভাইকে দিয়ে দেবেন। সে আশঙ্কাতেই তিনি এ কাজ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিয়মিত ওষুধ দিয়ে ধীরে ধীরে সতীশকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিলেন তার স্ত্রী না কি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।