ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

করাচিতে দাউদ ইব্রাহিমের দুই বাংলোর সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:৫২, ২৩ আগস্ট ২০২০
করাচিতে দাউদ ইব্রাহিমের দুই বাংলোর সন্ধান
মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থানের কথা স্বীকার করলো পাকিস্তান। করাচির ক্লিফটন রোডে তার ২টি বাংলো রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। এছাড়া দাউদ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে পাকিস্তান অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে বলেও জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘ সময় ধরে দাউদের অবস্থান নিয়ে ভারতের দাবি উপেক্ষা করে এসেছে পাকিস্তান। তবে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) চাপে পড়ে সেই দাবি স্বীকার করলো দেশটি। সম্প্রতি এফএটিএফ ৮৮টি বিশ্ব সন্ত্রাসবাদীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। যারা বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের আশ্রয়ে থেকে বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এবার সেই সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য ওই দেশগুলোর বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপাতে তৎপর প্যারিসভিত্তিক এই সংস্থাটি।

এফএটিএফ-কে দেয়া এক চিঠিতে পাকিস্তান জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে তারা হাফিজ সাইদ, মাসুদ আজহার ও দাউদ ইব্রাহিমের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। তাদের সম্পত্তি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এর আগে, ২০১৮ সালে পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করেছে এফএটিফি। ২০১৯ সালের শেষের মধ্যে দেশটিকে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়। তবে পরবর্তীতে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়া হয়।

গত ১৮ আগস্ট পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক নির্দেশনায় জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত ওই ৮৮ জনের সবার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসেব জব্দ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়। ওই ৮৮ জন সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী দাউদ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারির কথাও জানায় পাকিস্তান।

এদিকে, পাক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, করাচির অভিজাত এলাকা ক্লিফটনে সৌদি মসজিদের কাছে হোয়াইট হাউস নামে একটি বাড়ি আছে দাউদের। এছাড়া করাচির ডিফেন্স হাউসিং অথরিটির ৩০ নম্বর রাস্তায় ৩৭ নম্বর বাড়ি ও নুরবাদে পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাসাদোপম বাড়ির মালিকও দাউদ।

তবে শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্যের উত্স পাক সরকার নয় বলে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে পাকিস্তান। বিবৃতিতে বলা হয়, পরিপত্রে থাকা তালিকার তথ্যকে সুনির্দিষ্ট কারো পাকিস্তানে অবস্থানের বিষয়ে সরকারের স্বীকৃতি হিসেবে দাবি করা ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। এই তালিকা প্রকাশ নতুন কিছু নয়। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণে গতবছরও দেশটি এমন তালিকা প্রকাশ করেছিলো বলে উল্লেখ করা হয় ওই বিবৃতিতে।

সূত্র- এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএফ/টিআরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!