ধীরে ধীরে এ পাথর মানুষের কাছে পরিচিত হতে থাকে৷ কৌতুহলী মানুষ খেয়াল করল দণ্ডাকার চুম্বক মুক্তভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় সবসময় উত্তর-দক্ষিণ মুখ করে থাকে। মানুষ পেয়ে গেল দিক নির্ণয়ের যন্ত্র বা কম্পাস। তাই দণ্ড চুম্বকের দুই প্রান্তকে উত্তর-দক্ষিণ মেরু নামকরণ করা হলো।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের চিকিৎসক উইলিয়াম গিলবার্ট প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন যে, পৃথিবী নিজেই একটি চুম্বক। যার উত্তর মেরু ভৌগোলিক দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি এবং দক্ষিণ মেরু ভৌগোলিক উত্তর মেরুর কাছাকাছি।
.png)
আমরা জানি চৌম্বুকের বিপরীত মেরুদ্বয় পরষ্পরকে আকর্ষণ করে। তাই কোনো চুম্বক নিয়ে আমরা যদি পৃথিবীর উত্তরে যাই তাহলে চুম্বকের উত্তর মেরু ভূ-পৃষ্ঠের দিকে হেলে পড়বে। ভূ-চুম্বকের উত্তরমেরু বিন্দুতে খাড়া হয়ে থাকবে। দক্ষিণ মেরুতে নিলে চুম্বকের দক্ষিণ মেরু আগেরবার উত্তর মেরুর মতো আচরণ করবে।
উনবিংশ শতাব্দীর আগে ভাবা হতো তড়িৎ ও চুম্বক ভিন্ন। এরপর ১৮২০ সালের ২১ এপ্রিল ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের এক অধ্যাপক লেকচার দিতে গিয়ে দেখলেন কম্পাসের পাশে রাখা বৈদ্যুতিক বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহিত করলে কম্পাসের কাঁটা সরে যাচ্ছে। তিনি দেখলেন শুধু তড়িৎ প্রবাহ থাকলে এমন ঘটে। তখন তার মনে হলো তড়িৎ প্রবাহ ও চুম্বকের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। এটিই ছিল চুম্বকত্বের যাত্রায় প্রথম পদক্ষেপ।
(তথ্যসূত্র: ব্যাপন কিশোর সাময়িকী)