ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ ফিচার ]

ব্রাজিলের কোকাকোলা উপহ্রদ: রাসায়নিক বিক্রিয়া নাকি প্রকৃতির খেয়াল 

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:১৪, ১০ আগস্ট ২০২১
ব্রাজিলের কোকাকোলা উপহ্রদ: রাসায়নিক বিক্রিয়া নাকি প্রকৃতির খেয়াল 
লাগোয়া দা আরারাকুয়ারা উপহ্রদের পানির রং একেবারে কোকাকোলার মতো

বিরিয়ানি হোক কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় সিঙ্গারা। তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে কোমল পানীয় থাকা চাই-ই-চাই। হাতে গুণে কয়েকটি কোমল পানীয়ের নাম বলতে হলে শুরুতেই আসবে কোকাকোলা। ২০০ বছর ধরে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।

পছন্দের খাদ্যতালিকার শীর্ষে কোকাকোলার অবস্থান থাকলেও, কখনো ভেবে দেখেছেন কি যে আপনি আস্ত একটা কোকাকোলার হ্রদের মধ্যে সাঁতার কাটছেন? শুনে অসম্ভব মনে হলেও, ব্রাজিলের রিও গ্রান্দে দেল নর্তে তে অবস্থিত 'কোকা কোলা উপহ্রদ' এর পানির রঙ ঠিক কোকাকোলার মতোই!

এখানকার পানিতে থাকা উপকরণগুলো ভিন্ন এবং পানিতে নেই কোনো কার্বোনেশনলাগোয়া দা আরারাকুয়ারা নামক এই উপহ্রদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেই আপনি এর 'কোকাকোলা উপহ্রদ' নামকরণের সার্থকতা বুঝতে পাবেন। পানির রং ঠিক কোকাকোলার মতো হলেও, এখানকার পানিতে থাকা উপকরণগুলো ভিন্ন এবং পানিতে নেই কোনো কার্বোনেশন। ক্যারামেল নয়, বরং আয়রন ও আয়োডিনের সংমিশ্রণ এবং তীরে জন্মানো নলখাগড়ার পিগমেন্টেশন একসঙ্গে মিশে গিয়ে এর পানিকে কোকাকোলার রং দিয়েছে।

তাই কখনো ব্রাজিলের রিও গ্রান্দে দো নর্তে'র বাইয়া ফরমোসা অঞ্চলে যান, তাহলে এই বিখ্যাত কোকাকোলা উপহ্রদে একবার ঢুঁ মারতে ভুলবেন না যেন! কারণ কোকাকোলার হ্রদে স্নান করার সুযোগ কিন্তু বারবার আসবে না। রিও গ্রান্দে দো নর্তে'র দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত কোকাকোলা উপহ্রদ ব্রাজিলের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। শিশুরা এই উপহ্রদের নাম শুনে উল্লাসিত হলেও, পানির রং দেখে বয়স্ক মানুষেরা কখনো কখনো পানিতে নামতে চান না। 

গ্রীষ্মে ঘুরে বেড়ানোর জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গাগ্রীষ্ম মৌসুমে কোকাকোলা উপহ্রদের অগভীর পানি বেশ গরম থাকে, ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে গোসল করা বা বন্য শূকরের উপর চড়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গা। আবার অনেকের ধারণা, যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে পানির রং কোকাকোলার মত হয়ে গেছে; তা মানুষের স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেএসকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!