লাইভ অনুষ্ঠানের বদলে ভার্চুয়াল শো, কী বলছেন শিল্পীরা
মার্চ মাস থেকেই সব কিছু থমকে গিয়েছিল। করোনার প্রকোপ যত বেড়েছে, অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির মতো সঙ্গীতজগৎও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল প্রথমে। শো, ইভেন্ট সর্বত্রই তালা ঝুলল করোনার বিশেষ পরিস্থিতির কারণে। পূজার সময় থেকে শুরু করে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সঙ্গীতশিল্পীদের সুসময়। কিন্তু এবার কোনো শোয়ের অগ্রিম বুকিং নেই। বিদেশেও করোনার দাপট অব্যাহত।
বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি দ্রুত সময়ে আবার কাজে ফিরছে। তাই সেখানকার শিল্পীদের কাছে প্লেব্যাকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু টলিউড ইন্ডাস্ট্রি এখনো পুরোপুরি ট্র্যাকে ফেরেনি। আর শুধু প্লেব্যাক দিয়ে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি বাঁচতে পারে না, তার জন্য দরকার শোয়ের অক্সিজেন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল শোয়ের ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। যেখানে শিল্পীরা অনলাইনে শো করছেন। শ্রোতারা টাকা দিয়ে সেই শোয়ের টিকিট কাটছেন। এটাই এখন নতুন ‘ই’ভেন্ট।
আগের মতোই শোয়ের সময়, স্থান ও শিল্পীদের তালিকা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। শ্রোতারা টিকিট কেটে রাখছেন। তারপর নির্দেশ অনুযায়ী লগ-ইন করলে লাইভ অনুষ্ঠান দেখা যাচ্ছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশের জন্যও একইভাবে অনালাইন শো হচ্ছে। কখনো শিল্পী এককভাবে পারফর্ম করছেন, কখনো একাধিক শিল্পী একসঙ্গে।
এ প্রসঙ্গে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, অনলাইন শোগুলো একটু যান্ত্রিক। মঞ্চে শ্রোতাদের সামনে গান গাওয়ার সময়ে যে উন্মাদনা, যে প্রতিক্রিয়া পাই, তা এখানে থাকে না। ওই প্রতিক্রিয়ার মূল্য একজন শিল্পীর কাছে অনেক। তবে এই পরিস্থিতিতে নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল।
অনুপম রায় আবার এর মধ্যে চ্যারিটি শো ছাড়া কোনো লাইভ অনুষ্ঠান করেননি। তিনি বলেন, গান লিখছি, সুর করছি, গাইছি, সৃষ্টিতে তো বাধা নেই।
ইভেন্ট অর্গানাইজার রানা সিং রায় বলেন, ডিজিটাল শোয়ে টাকা যেমন কম পাওয়া যাচ্ছে, তেমন খরচও কম। প্রোডাকশন কস্ট নেই বললেই চলে। আগে একটা শো থেকে শিল্পীরা যে টাকা পেতেন, তার ২০-৩০ শতাংশ টাকাতেই অনলাইন শোয়ে রাজি হতে হচ্ছে তাদের।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আগের মতো পারিশ্রমিক পাওয়া যাবে কি না, সে প্রশ্নও কিন্তু উঁকি দিচ্ছে শিল্পীদের মনে।