ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

রবিউল ইসলাম, জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:২৮, ২১ মার্চ ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জীবনে তা হয়ে ওঠে স্বস্তি, আনন্দ ও আবেগের এক অনন্য উপলক্ষ। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা আর টিউশনের চাপে ব্যস্ত নগরজীবনে ক্লান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদের ছুটি যেন এক টুকরো মুক্তি। হল কিংবা শহরের একঘেয়ে জীবন ছেড়ে তারা ছুটে যায় শেকড়ে নিজ গ্রাম, পরিবার আর শৈশবের স্মৃতিমাখা পরিবেশে।

এই সময়ে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ এবং পারিবারিক বন্ধনের উষ্ণতা ঈদের আনন্দকে করে তোলে বহুগুণে গভীর। তবে এই আনন্দ সবার জন্য সমান নয়—পরিবার থেকে দূরে থাকা কিংবা অনিশ্চয়তায় থাকা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য ঈদ কখনও কখনও বয়ে আনে একাকিত্ব ও বেদনার অনুভূতিও। সব মিলিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি আনন্দ, স্মৃতি, ভালোবাসা আর বাস্তবতার এক মিশ্র অভিজ্ঞতা।

এই ব‍্যস্ত ক্লাস, এসাইনমেন্ট, পরীক্ষা ও টিউশনের  মাঝে ঈদের ছুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন‍্য সত্যিই যেন স্বস্তির নিংশ্বাস।  হল ও শহুরের একঘেয়েমি এবং কোলাহলপূর্ণ  জীবন থেকে বাচঁতে তারা ছুটে যায় গ্রামে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে। তারা এই সময় টা সম্পূর্ণ রূপে কাজে লাগাতে চায়। অনেক দিন পরে পুরাতন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠে যা পরিণত হয় পূর্বপরিচিত মানুষদের মিলন মেলায়। ঈদের দিনে নতুন পোশাক পরা আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে যাওয়া, ঘুরাঘুরি ঈদকে করে তোলে আরো রঙিন।

Advertisement

তবে ঈদ সবার জন‍্য যে আনন্দ বয়ে নিয়ে আসে তা নয় বিশেষ  করে যারা বিভিন্ন কারণে পরিবার ছাড়া বাহিরে ঈদ করে তাদের  জন‍্য ঈদ সত্যিই কষ্টদায়ক এবং একাকিত্বের । এছাড়াও, ঈদ একজন বেকার শিক্ষার্থীর জন্য শুধু আনন্দের নয়, বরং কিছুটা কষ্ট, হতাশা ও অনিশ্চয়তার অনুভূতিও বয়ে আনে। সব মিলিয়ে, ঈদ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন‍্য আনন্দের, আবেগ, স্মৃতির মেলবন্ধন।

মামুন সর্দার মুরাদ
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আজ আমি সেই অমোঘ আনন্দঘন মুহূর্তটির অপেক্ষায় আছি, যাকে আমরা বলি ঈদ।এক মহৎ স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছি। তারপর থেকে বাড়ি ফেরা আর আগের মতো হয়ে ওঠেনি। তবে ঈদ যেন মাঝে মাঝেই সবাইকে আবার একসঙ্গে করে দেয়। ছোটবেলার বন্ধু, খেলার সাথী, পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী—সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ যেন এক অন্য রকম আনন্দ বয়ে আনে। সারাবছর ডিপার্টমেন্টের নানা ব্যস্ততা, পড়ার চাপ আর প্যারার আয়োজনকে পেছনে ফেলে যখন এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করি, তখন মনে হয়—ঈদটা যদি সারাবছরই থাকত, তবে কতই না ভালো হতো!

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটা, ঈদ জার্নির হাঁপানি আর নানা ঝক্কি পোহানোর পর অবশেষে বাড়ির পথে রওনা দিলাম। বাড়িতে এসে দেখি, ঈদের আগেই যেন আরেকটা ঈদ বিরাজ করছে—আম্মুর হাসি, বাবার আদর, আর চারপাশের সেই চেনা গন্ধ। এই অনাবিল আনন্দময় মুহূর্তগুলো পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করতে পেরে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় অনুভূতি। আমার প্রার্থনা—দেশ ও বিদেশের সব মুসলিমের ঈদ যাক আনন্দময়। আর বিশেষভাবে ফিলিস্তিনের নাগরিকদের জন্য দোয়া করি, এই ঈদ যেন তাদের জন্য হয় ধৈর্য ও সাহসিকতার এক অনন্য মাধ্যম। যেন তাদের হাসি হারিয়ে না যায়, আর তাদের সংগ্রাম হয় বিজয়মুখী।

রবিউর রহমান রবি
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঈদ মানে বাড়ি ফেরার আনন্দ। রমজান মাসে পরিবার ছাড়া সিয়াম পালন করা, প্রতিটা সেহেরি, ইফতারে পরিবারের শূন্যতা অনুভব করার সমাপ্তি যেন এই ঈদ।শেষের কিছু রোজা পরিবারের সাথে করার সুযোগ এই ঈদকে আরও আনন্দময় করে তোলে। পাখিরা যেমন দিনশেষে তাদের নীড়ে  ফিরে তেমনি আমরা ফিরি শেকড়ের টানে,নিজ পরিবারের কাছে,নিজ শহরের কাছে। রমজান মাসজুড়ে একাডেমিক চাপের সমাপ্তি ঘটে এই ঈদে। বাসায় ফিরে মায়ের হাতের রান্না, আদরের ভাই-বোনেদের সাথে খুনসুটি, বাবার অবসর সময়ে সঙ্গ দেয়া সব মিলিয়ে ঈদ এবং ঈদের ছুটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। সারা বছরে আরো অন্যান্য ছুটি থাকলেও এই ঈদের ছুটি সকলের কাছে অধিক প্রতীক্ষিত।

রাবিয়া রাহায় রিশা,
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ঈদ আমার কাছে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব না, বরং পুরো বছরের মানসিক ক্লান্তি দূর করার একটি উপলক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা, পরীক্ষা, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা—সবকিছুর মাঝখানে আমরা এক ধরনের চাপের মধ্যে থাকি। ঈদের সময় বাড়ি ফিরতে পারা মানে সেই চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি।

তবে, একটা বিষয় আমাকে ভাবায়, তা হলো—ঈদের আনন্দ সবার জন্য সমান নয়। আমাদের সমাজে এখনও অনেক মানুষ আছে যারা নতুন কাপড় বা ভালো খাবারের সুযোগ পায় না। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের উচিত ঈদের আনন্দটা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা।

মো. রাফিউল হুদা 
শিক্ষার্থী, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ,
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।

সারা বছর ব্যস্ততার মাঝে আমরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি। ঈদ এলে মনটা একদম ফ্রেশ হয়ে যায়, সব দুঃখ,কষ্ট ভুলে যাই। আমি ঈদের দিন সকালে সুন্দর করে সাজব, নতুন পোশাক পরব। পরিবারের সঙ্গে বসে মজার মজার খাবার খাব। সেমাই, পোলাও, মাংস, খিচুড়ি, ডেজার্ট, সবই আমার খুব প্রিয়। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করব, একসঙ্গে ঘুরতে যাব।আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় বাসায় গিয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাব। ছোটদের সঙ্গে হাসি,আনন্দে সময় কাটাব। ঈদ আমাদের শেখায় সবাইকে নিয়ে সুখে থাকার আনন্দ। এই দিনটা সত্যিই সবার জন্য অনেক স্পেশাল।

মেহেরিন আলম
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!