এ সময় সভায় ছাত্রশিবিরের উপস্থিতি নিয়ে বামপন্থী সংগঠনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যান্য সংগঠনের শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
.png)
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান অসুস্থতাজনিত কারণে সভায় উপস্থিত না হওয়ায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ ও প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম সভা শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা জাকসুর গঠনতন্ত্র প্রণয়ন নিয়ে বিভিন্ন দাবি পেশ করতে থাকেন।
সভার এক পর্যায়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সোহাগি সামিয়া উপস্থিত সদস্যদের কোন সংগঠন থেকে এসেছে তা জানতে চেয়ে পরিচিতি পর্বের দাবি জানায়। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরিচয় দিতে শুরু করেন বিভিন্ন সংগঠন থেকে আসা প্রতিনিধিরা।
পরিচিতি পর্বের মাঝে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) বলেন জাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য না থাকায় আজকের সভাটি পরিচিতি পর্ব শেষে স্থগিত করা হবে। এ সময় মো. শরীফ নামে এক ছাত্রদল কর্মী পরিচয় দেওয়ার সময় শিবিরের উপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাইলে সেখানে থাকা অন্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা পরিচয় পর্বের মাঝখানে অতিরিক্ত কথা বলায় আপত্তি জানান।
এ সময় উপ-উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবার মতামতের ভিত্তিতে জাকসু নির্বাচন চায়। আজকে উপাচার্য না থাকায় সভা মুলতবি করা হলো। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়ে সভা আহ্বান করবে।
এদিকে সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি প্রাপ্তি তাপসী সভা মুলতবি করার প্রতিবাদ জানালে উপ-উপাচার্য তার ব্যাখ্যা দিতে গেলে ছাত্রফ্রন্টের সজীব আহমেদ জেনিচ ও সোহাগী সামিয়া উচ্চবাচ্য শুরু করেন। এ সময় উপস্থিত অন্যান্য সংগঠনের সদস্যরা তাদের উচ্চবাচ্যের প্রতিবাদ জানায়।
এ সময় উপ-উপাচার্য উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এটি আমাদের বিষয় না।
উপ-উপাচার্যের বক্তব্য শেষে অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা কক্ষ ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় সাংস্কৃতিক জোটের প্রাপ্তি তাপসী উচ্চবাচ্য করেন এবং ছাত্রফ্রন্টের সজীব আহমেদ জেনিচ ও জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিনিধি অমিত ‘জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে ছাত্রদলের কর্মী পরিচয় দেওয়া কয়েকজনকেও স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এ সময় উপস্থিত অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিরাও ‘বাকশালের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ বলে পাল্টা স্লোগান দিতে থাকেন। পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে দিতে উভয়পক্ষ কাউন্সিল কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। এছাড়া জেনিচকে কুরুচিপূর্ণ গালাগাল করতে দেখা যায়।