বুধবার সকালে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ক্যাফেটেরিয়ায় নাস্তা করতে এসে উপাচার্য এ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কাফেটেরিয়া পরিচালনার দায়িত্বে আছেন মান্নু মজুমদার। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনায় নিয়ম-শৃঙ্খলার অভিযোগ করে আসছেন। এছাড়াও পচা-বাসি খাবার পরিবেশন, পোকা খাওয়া সবজি, খাবারে পোকামাকড়, প্লেটের অপরিচ্ছন্নতা ও নোংরা পুরাতন বোতলে পানি সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে খাবারের মান নিশ্চিত করতে কড়াকড়ি আরোপ করেন উপাচার্য। এছাড়াও এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঝটিকা অভিযানে যান উপাচার্য।
.png)
পরিদর্শনকালে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মান্নু মজুমদারকে উদ্দেশ্য করে উপাচার্য বলেন, ‘হুট করে আমি দুপুর বা রাতে খেতে আসব, এটাই স্বাভাবিক। এক মাস সময় দিয়েও খাবারের মানের কোনো উন্নতি নেই। এখন মনে হচ্ছে, আপনার বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে।’
এ সময় উপাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব পাওয়ার পর উপাচার্যের নির্দেশে ক্যাফেটেরিয়ার দিকে নজর দিয়েছি। ক্যাফেটেরিয়া ম্যানেজারের সঙ্গে অফিসিয়ালি কথা বলেছি এবং খাবারের মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের মতামত সংগ্রহ করেছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপাচার্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, ছাত্ররা যেটা চায় আমরা সেটাই মেনে নিব। আজকের পরিদর্শনে পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং তাকে পরিবর্তনের জন্য আরো এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
নিম্নমানের খাবার পরিবেশ নিয়ে বাংলা বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আতিক হাসান অন্তর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। অনেক শিক্ষার্থী খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছে এবং পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের দাবি জানিয়ে আসছে। আমরা চাই ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্বে নতুন কাউকে আনা হোক এবং খাবারের মান উন্নত ও সুলভ মূল্য নিশ্চিত করা হোক।
খাবারের মানের পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে মান্নু মজুমদার বলেন, স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি সবকিছু পরিচালন করার চেষ্টা করব। খাবারের মানের ব্যাপারে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করছি। তারা যদি আমাকে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দেয় তাহলে আমি সেটা সমাধানের ব্যবস্থা নিব।