ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ঢাবিতে খাবার খেয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:১৬, ৩ নভেম্বর ২০২৪
ঢাবিতে খাবার খেয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ইউনিট বাঁধনের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া খাবার খেয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অসুস্থ ৭ শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ডা. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারেও চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা রাজধানীর চানখারপুলের নাজিমুদ্দিন রোডে ‘বনফুল সুইটস অ্যান্ড কোং’ থেকে আনা পাটিসাপটা পিঠা খেয়েই তাদের এই সমস্যা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বনফুল কর্তৃপক্ষ।

গত ১ নভেম্বর শহীদুল্লাহ হল মিলনায়তনে এই নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কিছু নাস্তার ব্যবস্থা করে বাঁধন কমিটি। সেগুলো হলো- লাড্ডু, কাপ কেক, সিঙ্গারা ও পাটিসাপটা পিঠা। পরে ২ নভেম্বর দুপুর থেকেই শিক্ষার্থীদের পেটে সমস্যা, জ্বর, বমি শুরু হয়।

Advertisement

শিক্ষার্থীরা জানান, তারা লাড্ডু ও কেক সরাসরি ফ্যাক্টরি থেকে মেয়াদ ও গুণগত মান দেখেই এনেছেন। এই দুই আইটেমে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এছাড়া সিঙ্গারা হল ক্যান্টিনে নিজেদের তত্ত্বাবধানেই তৈরি করা হয়েছে। এটাতেও সমস্যা নেই বলে দাবি তাদের। তবে তাদের সন্দেহ বনফুলের পাটিসাপটা পিঠায়। তাদের ধারণা, এই পিঠা খেয়েই তাদের পেটে সমস্যা, জ্বর, বমি ইত্যাদি অসুখ হয়েছে।

এ বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থী ও হল ইউনিট বাঁধনের সভাপতি আলিম মাহমুদ বলেন, যারা পাটিসাপটা পিঠা বাদে বাকি তিনটি খাবার খেয়েছে তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। সমস্যা হয়েছে যারা পাটিসাপটা পিঠা খেয়েছে তাদেরই। যারা অসুস্থ হয়েছেন তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা সন্দেহ করছি, বনফুলের পাটিসাপটা পিঠা থেকেই এই সমস্যাটা সৃষ্টি হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ইউনিট বাঁধনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বলেন, গত শুক্রবার শহীদুল্লাহ হল বাঁধনের প্রোগ্রামে আমি গিয়েছিলাম। প্রোগ্রাম শেষে হলে আসার পর ওইদিন রাত থেকেই পেটের পীড়া ও পাতলা পায়খানা হয়। স্বাভাবিকভাবে মনে করেছি, এটা এমনিতেই হয়েছে। কিন্তু শনিবার দুপুরের দিকে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। এমন অবস্থায় মেডিকেলে যাওয়ার জন্য বের হয়ে হল গেটে যাওয়ার পর বমি করতে করতে অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়ে হলে আসি। পরে জানতে পারি শহীদুল্লাহ হল বাঁধনের নবীন বরণ অনুষ্ঠানের দেওয়া খাবার খেয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী একই সমস্যায় ভুগছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বনফুল সুইটস অ্যান্ড কোম্পানির চানখারপুলের ম্যানেজার আল আমিন বলেন, শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীরা ১৪৫ পিস পিঠা নিয়েছেন, প্রতি পিঠা দুইভাগ করে দুইজন খেয়েছেন। সেই হিসেবে ২৯০ জন এই পিঠা খেয়েছেন। এছাড়া আমি আরো ৩০ পিস পিঠা অন্য এক জায়গায় বিক্রি করেছি। সেখান থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি। আমাদের সব শাখায় একই জায়গা থেকে পিঠা যায়, কোথাও কোনো সমস্যা হয় না। আমরা মনে করি, আমাদের পিঠায় কোনো সমস্যা নেই।

এ বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাবেদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার খবর শোনার পর আমরা তাদের কাছে ডাক্তার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। শনিবার দুপুর থেকে নাকি তাদের এই সমস্যা দেখা দিয়েছে, তবে আমি জানতে পেরেছি সন্ধ্যায়। শিক্ষার্থীরা সন্দেহ করছে, শুক্রবারের অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে এরকম হয়েছে। কিন্তু এটা বলা যাচ্ছে না, আসলে কি কারণ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!