ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

দূষণরোধে হাবিপ্রবি এলাকায় বাজার ব্যবস্থাপনার দাবি

তানভীর হোসাইন, হাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ২০:০৬, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
দূষণরোধে হাবিপ্রবি এলাকায় বাজার ব্যবস্থাপনার দাবি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) সংলগ্ন এলাকায় যেখানে-সেখানে গড়ে ওঠা মাছের বাজার এবং মুরগির দোকান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছে শিক্ষার্থীরা। এসব দোকান থেকে আসা দুর্গন্ধ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

জানা যায়, হাবিপ্রবি সংলগ্ন বাঁশেরহাট এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মুদি দোকান এবং কাঁচাবাজারের দোকানপাট। তবে বাজার থাকলেও সেখানে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নেই বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের। বাজারের মধ্যে রাস্তার একেবারে পাশ ঘেঁষে এখানে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ব্রয়লার মুরগির দোকান। একই সঙ্গে রাস্তার পাশে কোনো নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ না থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই যেখানে-সেখানে বসে মাছের দোকান। এসব দোকান থেকে আসা উৎকট দুর্গন্ধ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করছে বলে অভিযোগ আছে শিক্ষার্থীদের। শুধুমাত্র চলাচলে সমস্যাই নয় এসব দোকান থেকে আসা দুর্গন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের সুন্দর পরিবেশও নষ্ট করছে বলে মনে করে তারা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ধনঞ্জয় সরকার বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কিছু মুরগির দোকান এবং মাছের দোকান আছে। এসব দোকান থেকে আসা নানারকম আবর্জনা অনেক সময় রাস্তার পাশে পড়ে থাকার কারণে কুকুরের উৎপাত বেড়ে যায়। যা দুর্গন্ধ তৈরির পাশাপাশি আমাদের চলাচলেরও সমস্যা সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি এসব আবর্জনা পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি এসব দোকান রাস্তার পাশের জায়গার বদলে একটি ফাঁকা জায়গায় বরাদ্দ দেয় তাহলে খুব ভালো হয়।’ 

Advertisement

তিনি বলেন, দোকান স্থানান্তরের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অযত্নে পরে থাকা নালাটি যদি সংস্কার করা হয় তাহলে তা এই এলাকার পরিবেশ আরো সুন্দর হবে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ অনুষদের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারাহ উলফাত বলেন, ‘আসলে অনেক সমস্যাই আছে। তবে কিছু সমস্যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলেই সমাধান করতে পারে। সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এসব দোকান দুর্গন্ধ ছড়ায় যেটা আমাদের সমস্যা তৈরি করে। এসব দোকান সরিয়ে অন্য জায়গায় নিলে খুব ভালো হতো। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যে নালাটি আছে তা প্রশাসন চাইলেই পরিষ্কার করতে পারে। পরিষ্কারের পাশাপাশি একটু জায়গা করে দিলেই আমরা চলাচল করতে পারি। যেটা আমাদের চলাচলের দুর্ভোগ কমাবে বলে মনে করি।’ 

এসব দোকানপাট সরানোর বিষয়ে খুব শীঘ্রই বাশেরহাট এলাকার বাজার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শামসুজ্জোহা। তিনি বলেন, ‘নতুন প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা রকম সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে । শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাঁশেরহাট এলাকার পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। এই সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায় আমরা এ বিষয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা খুব দ্রুতই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব। পাশাপাশি যে নালাটা আছে তা পরিষ্কার করে শিক্ষার্থীদের হাঁটাচলা কিংবা বসার ব্যবস্থা করা যায় কিনা তাও আমরা দেখছি। আমরা আস্তে আস্তে এগুলো একটি ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: হাবিপ্রবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!