ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ব্রহ্মপুত্র: ঢেউয়ের সুরে প্রকৃতির কাব্য

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি
প্রকাশিত: ১৯:০১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
ব্রহ্মপুত্র: ঢেউয়ের সুরে প্রকৃতির কাব্য
ছবি: গোলাম কিবরিয়া

ব্রহ্মপুত্রের তীর যেন এক অনন্ত কাব্যের উপস্থিতি। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা ঘেষা বয়ে যাওয়া এই নদ শুধু জলের প্রবাহ নয়, এক ঐতিহ্যের ধারক, এক চিরন্তন কাব্যের উৎস। ব্রহ্মপুত্রের ঢেউগুলো কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল, তবে প্রতিটি ঢেউ যেন একেকটি সুর, একেকটি রাগমালা যা প্রকৃতির আদিম সুরের আভাস দেয়।

ব্রহ্মপুত্রের ঢেউগুলো আকাশের নীল মেঘের সঙ্গে যেন আলিঙ্গন করতে চায়। মৃদু হাওয়ার সাথে মিশে নদীর ঢেউগুলো তীরের পাথরে আছড়ে পড়ে, আর সেই সুরময় ছন্দে মুগ্ধ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক অদ্ভুত জাদু যেন ঘিরে ফেলে নদীর পাড়। চারপাশের সবুজ গাছপালা, দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ, আর নিরবধি প্রবাহিত জলরাশি- সব মিলিয়ে এই প্রাকৃতিক দৃশ্যপট যেন এক জীবন্ত চিত্রকল্প। এর মাঝে পাখির ডাকে মিশে থাকা নৈঃশব্দের সুর কখনো মুগ্ধ করে, আবার ঢেউয়ের গর্জন ভেসে এসে যেন জীবনের কোলাহলকে নিমিষে থামিয়ে দেয়।

ব্রহ্মপুত্রের স্রোত আজও তার হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। একসময়ে এ নদী ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম, যার বুক দিয়ে চলতো নৌকাবহর-জীবনের মূল চালিকা শক্তি। সেই ঐতিহ্য আজও বহন করে নদীর ঢেউ, আর তীরের প্রাচীন বৃক্ষগুলো দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। প্রাচীন শেকড় দিয়ে তারা আঁকড়ে আছে মাটি, যেন হাজার বছরের পুরনো ইতিহাসের গল্প বলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

Advertisement

এই ব্রহ্মপুত্রের তীরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা এসে খুঁজে নেয় প্রকৃতির গভীরতা। শুধু শিক্ষার্থীদের কথা বললে ভুল হবে, ময়মনসিংহের প্রতিটি মানুষের কাছে প্রিয় জায়গা হয়ে উঠেছে এই ব্রহ্মপুত্র নদ।  প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থী ভিড় জমায় নদের পাড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নদীর পাড়ে এসে প্রকৃতির সঙ্গে এক গভীর সংযোগ অনুভব করে। তারা দেখে নদীর জলধারার পরিবর্তনশীলতা, শুনে হাওয়ার সাথে মিশে যাওয়া ঢেউয়ের গান। তাদের মনের গভীরে ঢেউ তোলে নদীর অন্তর্গত ছন্দ, যেন এই জলরাশি শুধু জলের প্রবাহ নয়, এক অমোঘ কবিতা, যা হৃদয়ের অন্দরে আলোড়ন তোলে। উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে লুকিয়ে থাকে নীরব সম্মোহন, যা কাউকে এক মুহূর্তে নিয়ে যেতে পারে প্রগাঢ় ভাবনার জগতে।

ব্রহ্মপুত্রের তীরে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখে কেউ নিজের মধ্যে হারিয়ে যেতে বাধ্য। নদীর জলে সূর্যের আলো পড়ে তৈরি হয় সোনালি ঝিলিক, আর সে দৃশ্য যেন চোখে এক অনির্বচনীয় স্বপ্ন বুনে দেয়। সবুজ গাছপালা, নীলাকাশ, আর শান্ত-অশান্ত ঢেউগুলো একত্রে মিলে এক গভীর কবিতার সুর তৈরি করে, যা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় প্রকৃতির অনন্য মাধুর্যের কথা। এখানে এসে মন যেন হারিয়ে যায় সেই অনন্ত সুরের মধ্যে, যেখানে নদী, আকাশ, আর মানুষের হৃদয় এক সুতোয় গাঁথা। ব্রহ্মপুত্রের এই উত্তাল প্রবাহ শুধু একটি নদীর স্রোত নয়; এটি একটি জীবন্ত কাব্য, যেখানে প্রতিটি ঢেউ নতুন নতুন গল্প বলে, নতুন নতুন গান শোনায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
ট্যাগ: বাকৃবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!