ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

সংস্কৃতি চর্চায় পিছিয়ে নোবিপ্রবি, ১৭ বছরেও হয়নি মুক্তমঞ্চ

কাউসার আহমেদ, নোবিপ্রবি
প্রকাশিত: ১৫:১৬, ২৯ জুন ২০২৪
সংস্কৃতি চর্চায় পিছিয়ে নোবিপ্রবি, ১৭ বছরেও হয়নি মুক্তমঞ্চ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ইট-কাঠ-সিমেন্টে তৈরি একটি ইমারত নয়। বিদ্যার্জনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় আদান-প্রদান, ভাব বিনিময়, একে অপরের থেকে শেখা অথবা শিখিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার উর্বর ভূমি। তবে প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও অনেকটাই পিছিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)।

অনেকেই মনে করেন, একটি মুক্তমঞ্চ বা সাংস্কৃতিক চর্চার সুনির্দিষ্ট প্লাটফর্ম না থাকায় সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা পিছিয়ে পড়ার প্রধান ও একমাত্র কারণ। দেশের ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির ধারা বজায় রাখতে মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠা এখানকার শিক্ষার্থীদের সময়ের দাবি।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে নোবিপ্রবি ছায়া জাতিসংঘ, নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি, চলো পাল্টাই ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, মিউজিকাল ক্লাব ‘ধ্রুপদ’, ড্যান্স ক্লাব, নোবিপ্রবি ট্যুরিজম ক্লাব, শব্দকুটির, সায়েন্স ক্লাব, গবেষণা সংসদ, বিজনেস ক্লাব, চিত্রকৃৎ, ক্যারিয়ার ক্লাব, এডভেঞ্চার ক্লাব, জেলাভিত্তিক ছাত্র সংগঠন। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে কনসার্টসহ নানা আয়োজন থাকে তাদের। 

Advertisement

এসব সংগঠনের দায়িত্বশীলরা বলেন, সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতক বিচরণের জায়গা বাড়েনি। আড্ডা, গল্প, গান বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের জন্য যথেষ্ট জায়গা নেই এই শিক্ষাঙ্গনে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গেলে জায়গা সংকটে বেগ পোহাতে হয় আয়োজকদের। মুক্তমঞ্চ হলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে পড়ালেখার একঘেয়েমি কিছুটা হলেও কাটবে। আর সেই সুযোগ করে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত মুক্তমঞ্চ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে এমনটাই আশা করছেন তারা।

এ বিষয়ে ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি নাজমুল ইসলাম হৃদয় বলেন, মুক্তমঞ্চ সত্যিকার অর্থে মুক্তবুদ্ধির জাগরণের প্রতিনিধিত্ব করে। ভিন্ন ভিন্ন চিন্তার মানুষদের চিন্তার প্রতিফলনের নিমিত্তে ভিন্নধর্মী সংস্কৃতি বিকাশের জন্য মুক্তমঞ্চ প্রয়োজন। আমাদের কোনো প্রোগ্রাম আয়োজন করার সবচাইতে বড় সার্থকতা সেই আয়োজনের যে বার্তা সেটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিকট পৌঁছে দেওয়া। মুক্তমঞ্চ ছাড়া আবদ্ধ আয়োজন সেই বার্তা পৌঁছানোর মূল বাধা। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা জানায়, পশ্চিমা সংস্কৃতি ও অনলাইন জগতকে সবাই যখন নিতান্ত আপন করতে ব্যস্ত, তখনো তারা বাঙালি সংস্কৃতি সবার মধ্যে তুলে ধরার মাধ্যমে আনন্দঘন কিছু সময় উপহার দিতে বদ্ধ পরিকর। কিন্তু ছোটখাটো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে গেলেও তাদের অনেক বেগ পোহাতে হয়। একটি মঞ্চ তৈরি করতে ২০/২৫ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান করতে ভাড়ার পাশাপাশি এক মাস পূর্বেই দিয়ে রাখতে হয় বুকিং। তাও আবার বুকিং পাওয়া নিয়ে থাকে বিড়ম্বনা। ফলে  উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান করাটা আর্থিকভাবে অনেকটা ভাবায়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাঝেমধ্যে অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায় না। 

ডান্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক উম্যাসিং মারমা অনুশ্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ব্যস্ততার মধ্যে সংস্কৃতি চর্চার আবহকে ফুটিয়ে তুলতে মুক্তমঞ্চ প্রয়োজন। গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক ইত্যাদি বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তবুদ্ধি চর্চার অন্যতম স্থান মুক্তমঞ্চ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনো মুক্তমঞ্চ করা হয়নি। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে অডিটোরিয়ামে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। মুক্তমঞ্চ থাকলে আমাদের ডান্স ক্লাবের উদ্যোগে নৃত্য পরিবেশনা, নৃত্যানুষ্ঠান আয়োজনেও বড় পরিসরে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। ক্যাম্পাসে মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে ধারণ করে সংস্কৃতিচর্চা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশে ভিন্নমাত্রা।

বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা জানায়, সংগঠনগুলোর নির্দিষ্ট অফিস কক্ষ কিংবা রিহার্সাল করার মতো জায়গা নেই বলে অভিযোগ তাদের। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম নির্ভর হতে হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে একটিমাত্র শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটোরিয়াম থাকলেও সপ্তাহের প্রায় দিনই সেগুলোতে আলোচনা সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, বিদায় অনুষ্ঠানের মত বিভিন্ন অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। ফলে রিহার্সাল করা হয়ে উঠে না তাদের।

তারা জানায়, অডিটোরিয়াম রিকুইজিশন না পাওয়ায় ক্লাস রুমে চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ থাকতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, আমাদের মাস্টারপ্লানে মুক্তমঞ্চ এবং টিএসসসির পরিকল্পনা আছে। কোথায়-কী করা হবে- সেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: নোবিপ্রবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!