ভারতের শিলিগুড়িতে সপ্তমবারের মতো এই আম উৎসব উদযাপিত হচ্ছে। গত ৯ জুন থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই ম্যাংগো ফেস্টিভ্যালের পর্দা নেমেছে ১১ জুন। উৎসবের আয়োজক অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম।
তিন দিনের এই উৎসবে অংশ নিয়েছে ভারত, নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশের আম উৎপাদনকারীরা। এছাড়াও চার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিক্ষার্থী এবং শিল্পীদের দ্বারা জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয় এখানে।
.png)
অনুষ্ঠানটিতে তিন দেশের আম, হস্তশিল্প, শিল্পকলা এবং খাবারের স্টল বসানো হয়। সমগ্র বাংলা, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ থেকে পর্যটক ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই উৎসবে অংশ নেয়।
এই আম উৎসবে ২৬২ প্রজাতির আমসহ প্রদর্শনীতে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম ‘মিয়াজাকি’ও স্থান পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই আমের দাম প্রতি কেজি প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
গীতাঞ্জলি ম্যাংগো ফেস্টিভালে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া ‘অলয় অর্গানিকস’ এর রেজাউল করিম সুমন বলেন, ‘বর্তমানে এটি শুধুমাত্র একটি আম উৎসব নয়, চারটি দেশেরই প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট মানুষের একটি মহা মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। হিমালয় ও হিমালয়ের পাদদেশের পুরো একটি অঞ্চলের একসঙ্গে কি চমৎকার অংশগ্রহণ। এই অঞ্চলটি নেপাল, ভুটান, ভারত, বাংলাদেশ এভাবে ভাগ হলেও এখানকার প্রাণ প্রকৃতি, নদী, বন, জঙ্গল, মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন রয়েছে। সেই বন্ধনকে খুঁজে পেয়েছি এই গীতাঞ্জলি আম উৎসবে।’
'অলয় অর্গানিকস' এর প্রধান হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী জুলকিফল ইসলাম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এই উৎসবে বাংলাদেশে উৎপাদিত ১১ জাতের আম আমরা প্রদর্শিত করতে পেরেছি। যা বহির্বিশ্বে বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এই আমগুলোর পরিচিতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ফলে ভবিষ্যতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও আমরা আমাদের আম রফতানি করতে পারব। এভাবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হব। আমাদের দেশের আম চাষে এটি একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে আশা করছি।