ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ঢাবির নাগলিঙ্গম: সাপ না এলেও- মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ফুল

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি
প্রকাশিত: ১৭:৫০, ২৭ মে ২০২৩
ঢাবির নাগলিঙ্গম: সাপ না এলেও- মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ফুল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের গাছটিতে নাগলিঙ্গম ফুল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ রাজিতে ভরপুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হল প্রাঙ্গণ। এবার এ প্রাঙ্গণে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে দুষ্পাপ্য প্রজাতির নাগলিঙ্গম গাছের ফুল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকেই কয়েক কদম হাঁটলেই গাছটির দেখা মিলবে যে কারোই। এবার আগের চেয়েও গাছটিতে বেশি সংখ্যক ফুল এসেছে বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছপালার সৌন্দর্য বর্ধনেরও দায়িত্বে নিয়োজিত। 

তিনি জানান, গাছটিতে মূলত কাণ্ড থেকেই ফুল বেরিয়ে আসে। আর এ কারণেই কয়েক মাস আগে কাণ্ডের অযাচিত পাতা ছাঁটাই করে দিয়েছিলেন। ফলে এ মৌসুমে বেশি ফুল এসেছে গাছটিতে। কার্জন হলে পাশাপাশি দুটি গাছ ছাড়াও, ক্যাম্পাসটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আরো কয়েকটি গাছ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, কার্জন হলের গাছটি সবচেয় বৃহদাকার। গাছটির অনন্য সৌন্দর্যতার কারণে প্রতিদিন হাজারো উদ্ভিদ প্রেমী দর্শকতে কাছে টানছে। কাণ্ড থেকে বেরিয়ে পড়া এত ফুল ও ফুলের কলি দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন তারা। গাছটির গোঁড়ার কাছেও ফুলের পাপড়ি পড়ে এক চমৎকার ফুলের বিছানা তৈরি করছে। আর গাছটির ফুলগুলো ছড়াচ্ছে চমৎকার সুগন্ধের মাদকীয় মুগ্ধতা। আর এ কারণেই গাছটির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন দুষ্পাপ্য এই ফুলের।

Advertisement

মুখে মুখে কথিত এক প্রচলিত কাহিনী সূত্রে জানা যায়, নাগলিঙ্গম গাছে যখন ফুল ফোটে তখন ফুল হতে অদ্ভুত মাদকতাময় গন্ধ বের হয়। সেই গন্ধে নাগিনীর গায়ের মতো কামগন্ধ খুঁজে পায় নাগ। কামের নেশায় মত্ত হয়ে তখন নাগ ফণা তোলা নাগিনীর মতো দেখতে ফুলের কাছে ছুটে যায়। সাপুড়েরা ঠিক একারণেই তাই এই গাছের নাম দিয়েছেন নাগলিঙ্গম। তবে এ গল্প কতোটা সত্য তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা বলছেন, আসলে বিষয়টির বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই।

এ ফুলের রঙ অনেকটা লালচে কমলা বা লালচে গোলাপি হয়ে থাকে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নাগলিঙ্গম গাছটি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা বলেন, ‘মূলত নাগলিঙ্গম এক প্রকার বিশাল বৃক্ষ, যার ফুলের নাম নাগলিঙ্গম ফুল। এর ইংরেজি নাম ‘ক্যানন বল’। ‘ল্যাসাইথিডেসিয়া’ পরিবারের নাগলিঙ্গমের বৈজ্ঞানিক নাম ‘করোপিতা গুইয়াসেসিস’। বর্তমানে বৃক্ষটি একটি দুষ্পাপ্য প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। দুষ্পাপ্য এই বৃক্ষ সারাদেশে খুব বেশি দেখা যায় না।’

তিনি আরো জানান, ‘নাগলিঙ্গম গাছ ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। গুচ্ছ পাতাগুলো খুব লম্বা, সাধারণভাবে ৮ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। বছরের প্রায় সব ঋতুতেই এই গাছের পাতা ঝরে এবং কয়েক দিনের মধ্যে আবার নতুন পাতা গজায়। ভেষজ গুণসম্পন্ন নাগলিঙ্গম গাছের ফুল, পাতা ও বাকলের নির্যাস থেকে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে ফুল ফোটে। গাছের কাণ্ডভেদ করে বেরিয়ে আসে প্রায় ৭-৮ ইঞ্চি মঞ্জুরি। এক একটি মঞ্জুরিতে ১০-২০টি ফুল ক্রমান্বয়ে ফুটতে থাকে। মঞ্জুরির একদিকে নতুন ফুল ফোটে, অন্যদিকে পুরাতন ফুল ঝরে পড়ে। ফুলের রঙ অনেকটা লালচে কমলা বা লালচে গোলাপি হয়ে থাকে। ফুলে ৬টি মাংসল পুরু পাপড়ি থাকে।'

এই উদ্ভিদ গবেষক বলেন, ‘ভেষজ গুণে ভরা গাছটি নিয়ে গবেষণা করার প্রয়োজন আছে। ভেষজ গুণসম্পন্ন ও শোভাবর্ধক এ গাছটিকে উদ্ভিদ প্রজনন ঘটিয়ে কিংবা যেভাবেই হউক গাছটিকে সারাদেশে ছড়িয় দেওয়া ও টিকে রাখা এখন জরুরী হয়ে পড়ছে।'

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে নাগলিঙ্গম খুব একটা দেখা যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা রমনা উদ্যানে, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে হাতে গোণা কয়েকটি নাগলিঙ্গম গাছের দেখা মেলে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!