ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

এক কিশোরী একাধিক শিক্ষকের মেয়ে, নানা স্কুলের ছাত্রী!

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৩:১০, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
এক কিশোরী একাধিক শিক্ষকের মেয়ে, নানা স্কুলের ছাত্রী!
নোবিপ্রবি এলাকায় আটক হওয়া সেই কিশোরী। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বেশ কয়েকদিন ধরেই নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এলাকায় এক কিশোরীকে দেখা যাচ্ছিল। কখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে, কখনও টং দোকানে, কখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন জায়গায়। তিনি নিজেকে পরিচয় দিচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকের মেয়ে হিসেবে। তার নাম নিয়েও নানা আলোচনা। কারো কাছে রোজা মণি, কেউ জানে  তামান্না, আবার কারো কাছে সৃষ্টি নামে সে পরিচিত। 

চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করেও সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হতে না পারায় এদিন রাতে সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়িতে তাকে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

Advertisement

পরে পুলিশ ফাঁড়িতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডারের পাইলট স্কুলের পাশে বলে জানায়। এমনকি নিজেকে ফেরদাউসের মেয়ে বলে পরিচয় দেয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে নোয়াখালী সুধারাম থানায় পাঠানো হয় তাকে। 

এদিকে তাকে আটকের পর একের পর এক তথ্য বেরিয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় অনেককে অভিনব কায়দায় প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে সে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধারণা, বড় কোনো প্রতারক চক্রের সঙ্গে সে জড়িত।

প্রতারণার বেশকিছু বিষয় ধরা পড়েছে তার পোশাকে। কখনও সে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পোশাক, আবার কখনো হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের পোশাক, আবার কখনো ব্রাদার আন্দ্রে হাইস্কুলের পোশাক পরে বের হন। চোখে চশমা, হাতে ঘড়ি আর কথাবার্তায় যথেষ্ট স্মার্ট। 

আশরাফুল ইসলাম রনি নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকের নাম জানে। বিভিন্ন সময় নিজের বাবা-মা বলে তাদের পরিচয় দেয়। গতকাল বাসে বলেছে তার মা ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান। তাকে কিছু টাকা দেয়ার জন্য। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আসল ঘটনা বের করা হোক।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মেয়েটাকে দত্তের হাট আমার স্টুডেন্ট পড়ানোর সময় হঠাৎ তাদের বাসায় এসে আমার স্টুডেন্টকে ডাকতে দেখেছি। তখন মেয়েটি তার পরিচয় দিয়েছে, সে হরিনারায়ণপুর স্কুলের জোবাইদা ম্যাডামের ভাগনী। আবার সে আমার স্টুডেন্ট সম্পর্কে সম্পূর্ণ ইনফরমেশন জানে। সেদিন দেখেছি হরিনারায়ণপুর স্কুলের ড্রেস পরে আছে। আজ গার্লস স্কুলের ড্রেস পরা। মেয়েটি মনে হয় বড় কোনো প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত।’

আশরাফুল ইসলাম স্বাধীন নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘একদিন সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ওঠে দেখি মেয়েটি ঐ বাসে। মেয়েটা বাসে ওঠার পর কেমন যেন একনজরে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে। পরে আমি জিজ্ঞেস করলাম কিছু বলবে? তারপর সে বলে তুমি আম্মুর ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট? সে বলে আমার আম্মু ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটি আলেকজান্ডার পৌর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামল গ্রামের বাসিন্দা। প্রতারণার দায়ে সে এর আগেও একবার আটক হয়।

নোয়াখালীর সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মেয়েটির পরিবার আসলে তাদের হাতে তাকে দিয়ে দেওয়া হবে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: নোবিপ্রবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!