নীল-সাদা বাসেই বাড়ি ফিরছে রাবি শিক্ষার্থীরা
ভোরের সূর্যটা একটু আগেই পূর্ব আকাশে উঁকি দিয়েছে। আস্তে আস্তে তার আলো ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। ঘড়িতে সময় তখন সকাল সাড়ে ৬টা। এক হাতে ব্যাগ অন্য হাতে লাগেজ, পিঠে ঝুলানো আরো একটি ব্যাগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকলেন এক শিক্ষার্থী। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরো অনেক শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করেছে ক্যাম্পাসে। তারা জড়ো হতে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে।
আগত অনেক শিক্ষার্থীরা মেতে উঠেন আড্ডায়। আবার কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে করছেন আলিঙ্গন। সেই স্মৃতি ফ্রেমে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তারা। ঈদুল আযাহার আগে এটাই যে বন্ধুর সঙ্গে শেষ দেখা। কেউ দাঁড়িয়ে কেউবা বসে অপেক্ষা করছেন বাসের জন্য। কখন আসবে সে বাস। বাস আসলো শিক্ষার্থীরা এক এক করে উঠলেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমনই চিত্র চোখে পড়ে। ঈদে প্রতিবারই গণপরিবহনে বাড়ি ফেরে শিক্ষার্থীরা তবে এবার যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল-সাদা বাসে। একটু ভিন্নভাবে।
পরীক্ষা দিতে এসে আটকে পড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাই সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের এমন আনাগোনা। করোনা মহামারিতে পরীক্ষা দিতে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন তারা। লকডাউনের কারণে অনেক আগেই হয়েছে পরীক্ষা স্থগিত। চোখে মুখে লেগে আছে হতাশার ছাপ। ঈদে বাড়ি ফিরতে পারবে কি না, সেটা নিয়ে ছিলো হাজারো সংশয়। তবে সেটা এখন অনেকটাই ম্লান, পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে তারা। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেই বাড়ি ফিরছেন তারা।
.png)
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুসারে রংপুরের উদ্দেশে ১১টি বাস ক্যাম্পাস ছেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারার আনন্দ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের বিদায় জানাতে সকালেই ক্যাম্পাসে উপস্থিত হোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, প্রো-ভিসি অধ্যাপক চৌধুরি মো. জাকারিয়াসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি যাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান মিলু বলেন, ঈদে বাড়ি যাবো কিভাবে? এই নিয়ে অনেক চিন্তায় ছিলাম। তারপর যখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানালো, তখন অসম্ভব ভালো লাগা কাজ করছিলো। প্রিয় ক্যাম্পাসের নীল-সাদা বাসে বাড়ি যাচ্ছি। অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে। সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মল্লিকা আক্তার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে এটাই হয়তো প্রথম ও শেষ দীর্ঘ যাত্রা। এমন সুযোগ কখনো আসবে কি না জানা নেই। পুরো বাসেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষাসফর না হলেও শিক্ষাসফরের মতো অনুভূতি পাচ্ছি। এক সঙ্গে এতগুলো বাস একদিকে যাচ্ছে আশেপাশের মানুষজন তাকিয়ে দেখেছে। চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই ভ্রমণ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই।