ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২০ টাকায় ‘এক সমুদ্র’ সুখ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়! নামটি শুনলেই যেন কল্পনায় ভেসে ওঠে এক রঙিন জীবনের হাতছানি। হাসি-আড্ডা আর গানে মুখর এই প্রাণোচ্ছল ক্যাম্পাস। তবে সে স্বপ্ন ছুঁতে পারেই বা কয়জন! স্বপ্ন ছুঁয়ে দেয়ার অদম্য বাসনা থেকেই সব বাধা ডিঙিয়ে স্বপ্নের সারথিরা জায়গা করে নেয় স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে।
টুকিটাকি কত শত মজার ঘটনা ঘটে চলে এখানকার প্রাত্যহিক জীবনে, কত মজার ইতিহাসের সাক্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয়, তা কি জানা আছে আপনার?
চলুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে একটু ঘুরে আসা যাক! গল্পে গল্পে জেনে নেই আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র টিএসসি ও ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া নিয়ে। যেখানে মিলবে শায়েস্তা খাঁর আমলের চায়ের সঙ্গে ২০ টাকায় এক সমুদ্র সুখ!
অবাক হচ্ছেন! অবাক হওয়ারই বিষয়। জেনে নেয়া যাক তাহলে- ২০ টাকায় এক সমুদ্র সুখ! শুনেই কেমন যেন লাগছে, তাই না? ২০ টাকায় ভরপেট খাবার, কীভাবে সম্ভব?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে না এলে আসলেই কারো বিশ্বাস হবে না, মাত্র ২০ টাকাতে পেট ভরে খাওয়া যায়! টিএসসি এবং ডাকসু, এই দুই জায়গায় মাত্র ২০ টাকায় পাওয়া যায় ভাত, এক টুকরো মুরগির মাংস, আলু ভর্তা আর ডাল! মাঝে এর সাথে মুরগি খিচুড়িও!
ও হ্যাঁ, এখানে ভাত আর ডাল কিন্তু ‘আনলিমিটেড’, যত খুশি খান, খেতে পারবেন! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই তাই মজা করে বলে, বেশি করে ডাল খাও, পানির উপর চাপ কমাও!
এমন কত ঠাট্টা, রসিকতা, হাসি-কান্নার গল্প জমে আছে টিএসসি আর ডাকসুর ক্যাফেটেরিয়া এই ২০ টাকার খাবারের সঙ্গে। ২০ টাকায় কেনা এই ‘সুখ’ আসলে অমূল্য।

শায়েস্তা খাঁর চা!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মানেই পড়াশোনার পাশাপাশি হাসি-আড্ডা-গানে মুখরিত ক্যাম্পাস। আর এসবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে জম্পেশ খাওয়া দাওয়া! খাবারের নানা রকম ব্যবস্থা নিয়ে সবসময় তৈরি ছোট বড় অসংখ্য দোকান।
এরমধ্যে অবশ্যই যে আইটেমটা থাকা চাই তা হচ্ছে ধোঁয়া ওঠা গরম গরম লাল চা! এক কাপ গরম পানি, চা-পাতা, চিনি আর এক টুকরো লেবু। যেকোনো দোকানে এই চা প্রতি কাপ ৫ থেকে ১০ টাকা। তবে এই চা এক টাকায়ও পাওয়া যায়!
খেতে চাইলে যেতে হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায়। চা এখানে স্বাদের জন্য যতটা না বিখ্যাত, তার চেয়েও বেশি বিখ্যাত দামের জন্য।
টিএসসি ছাড়াও ডাকসু ভবনের নিচতলার ক্যাফেটেরিয়া ও বিজ্ঞান ক্যাফেটেরিয়ায় এই এক টাকার চা পাওয়া যায়। চায়ের উপাদান ছাড়া বাকি সব খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করে বলেই এখনো এটি চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।