বিদেশি ফলের উচ্চ শুল্ক-কর প্রত্যাহারের সুপারিশ
বিদেশ থেকে আমদানি করা তাজা ফলের ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক-কর কাঠামো প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। সংস্থাটির মতে, বিলাসদ্রব্যের মতো উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের কারণে সাধারণ মানুষের পুষ্টি গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বৈধ পথে ফল আমদানি কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আহরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
গত ২৭ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তাজা ফলের শুল্ক-কর কাঠামো পর্যালোচনাবিষয়ক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি শিগগিরই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো হবে।
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে আপেল, কমলা, ম্যান্ডারিন, আঙুর, নাশপাতি ও আনার আমদানিতে ধারাবাহিকভাবে শুল্ক-কর বাড়ানো হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এসব ফলের ওপর মোট শুল্ক-কর হার ছিল ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে তাজা ফলের মোট আমদানি ৮ লাখ টন থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ৫ লাখ ৭১ হাজার টনে নেমে এসেছে।
তবে আমদানি কমলেও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়া এবং উচ্চ শুল্কের কারণে এ সময়ে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, শুধু শুল্ক বাড়ানোর পরিবর্তে আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েও রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব। শুল্ক কমলে ভোক্তা পর্যায়ে ফলের দাম কমতে পারে, ফলে চাহিদা বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে তুলনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি করা ফলের ওপর বাংলাদেশে শুল্ক-কর সবচেয়ে বেশি। ভারতে ফল আমদানিতে শুল্কের হার প্রায় ৬০ শতাংশ, পাকিস্তানে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং নেপালে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশে মোট শুল্ক-কর হার ১২১ শতাংশের বেশি। এতে আমদানিকারক ও ভোক্তা—উভয় পক্ষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে কমিশন।
পাইকারি ও খুচরা দামে বড় ব্যবধান
প্রতিবেদনে ফলের বাজারে পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধানের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কমলার দাম ৩২৫ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কমিশনের মতে, খুচরা পর্যায়ে মুনাফার হার যৌক্তিক পর্যায়ে আনা গেলে সাধারণ মানুষের জন্য ফলের দাম আরও সহনীয় করা সম্ভব।
ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ
প্রতিবেদনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয় না—এমন তাজা ফল, যেমন আপেল, কমলা, ম্যান্ডারিন, আঙুর, নাশপাতি ও আনার আমদানিতে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক (এসডি) ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আমদানিকৃত তাজা ফলের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণে শুল্ক মূল্যায়ন (আমদানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০০০ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। শুল্ক-কর কমানোর পর রাজস্ব আহরণ ও ফল আমদানির পরিমাণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণেরও সুপারিশ করেছে কমিশন।