ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

কিউ-ক্যাশ মাইগ্রেশনে বন্ধ ব্যাংক সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:১৬, ৬ অক্টোবর ২০২৬
কিউ-ক্যাশ মাইগ্রেশনে বন্ধ ব্যাংক সেবা
ফাইল ছবি

আগাম না জানানোয় বাংলাদেশ ব্যাংকের অসন্তোষ, বিকল্প সেবা ব্যবহারের পরামর্শ, দেশে এবং দেশের বাইরে ভ্রমণরত মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে।

কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে দেশের প্রায় ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন কার্ড ও লেনদেন সেবা সাময়িকভাবে সীমিত হয়েছে। এর প্রভাবে কোনো কোনো ব্যাংকের এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কার্ড লেনদেন এবং আন্তব্যাংক লেনদেনের কিছু সেবা বন্ধ রয়েছে। তবে সব ব্যাংকের সব ধরনের সেবা বন্ধ হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে সেবার সীমাবদ্ধতা ভিন্ন ভিন্ন।

সম্প্রতি কৃষি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ প্রায় ৩০টি ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের বিভিন্ন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত সিস্টেম আপগ্রেড ও রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের এই মাইগ্রেশন কার্যক্রম চলছে।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আগাম কোনো তথ্য না দেওয়ায় ব্যাংকগুলোর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। এর প্রভাবে আইটিসি তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে সেবা বন্ধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা পূর্ব ঘোষণা দেয়নি।

এতে একই ভাবে দুর্ভোগে পরেছেন ভ্রমন পিপাসু লোকগুলো, অনেকে দেশে এবং বিদেশে ভ্রমনে রয়েছেন, যাদের নগদ টাকার বিকল্প হিসেবে কার্ড একমাত্র ভরসা, এমন মানুষগুলো এখন চরম এক আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, এমনই একজন গ্রাহক মোঃ আরিফুল ইসলাম, যিনি এনআরবিসি ব্যাংক এর কার্ড ব্যাবহার কারী, গত পরশু থাইল্যান্ড গিয়েছেন, তিনি পর্যাপ্ত নগদ উত্তোলন করেননি, গতকাল রাতে যখন এটিএম বুথে টাকা উত্তোলন করতে গেছেন তখন দেখেন তার কার্ড কাজ করছে না, পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ব্যাংকের কার্ড সেবা বন্ধ আছে, এমনই হাজারো মানুষ প্রতিদিন দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গুরে বেড়ান, যারা আর্থিক নিরাপত্তার জন্য এটিএম কার্ড সাথে রাখেন।

সেবা বন্ধের ব্যাপারে ব্যাংকগুলোর বক্তব্য এক প্রকার ধোঁয়াশা, অনেক ব্যাংকের শাখা বাবস্থাপক জানেন না তাদের কি কি সেবা চালু আছে আর কি কি সেবা বন্ধ আছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, গতকাল দুপুরের পরে আমরা জানতে পারলাম আমাদের কিউ ক্যাশ রিলেটেড সেবাগুলো আগামি পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে, পরে বিকেলে দেখি অনলাইন ব্যাংকিং গুলো ও কাজ করছে না।

হঠাৎ এসব সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এককভাবে নেওয়াকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ভালোভাবে নেননি এবং এ ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানান আরিফ হোসেন খান। তিনি আরও যোগ করেন যে কোণও সেবা ব্যাংকগুলো বন্ধ রাখলে সেটা কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে গ্রাহককে জানাতে হবে, কিন্তু সে বিষয়েও ব্যাংকগুলোর উদাসীনতায় চরম বিরক্ত বলে তিনি জানান।

এদিকে ব্যাংক এশিয়ার গ্রাহকদের পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্যাংকটির কিছু সেবা বন্ধ থাকবে।

এ সময়ে ব্যাংক এশিয়ার ক্রেডিট কার্ড ও প্রি-পেইড কার্ডের লেনদেন করা যাবে না। একই সঙ্গে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত এটিএম, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম) ও পিওএস থেকেও লেনদেন করা যাবে না।

তবে ব্যাংকটির ডেবিট কার্ডের লেনদেন স্বাভাবিক থাকবে। অন্য ব্যাংকের এটিএম ও পিওএস, বাংলা কিউআর এবং ব্যাংকটির মানি অ্যাপের মাধ্যমে ট্যাপ, বিকাশ, নগদ ও উপায়ে ফান্ড ট্রান্সফার চালু থাকবে। কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা অন্যান্য ব্যাংকে ফান্ড ট্রান্সফারও স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে ব্যাংক এশিয়া।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কিছু আন্তব্যাংক লেনদেন সেবাও এ সময়ে সীমিত হয়েছে। ফলে এক ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে অন্য ব্যাংকের এটিএম কিংবা নির্দিষ্ট কিছু চ্যানেলে লেনদেন করতে গিয়ে গ্রাহকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

কিউক্যাশ ব্যাবহার কারী একেক ব্যাংক একেক ধরণের সেবা বন্ধ রাখছে এটা নিয়াও চরম বিরক্ত সাধারন গ্রাহকরা, দেশে মোট ১৯ টা ব্যাংক Qcash এর মাধ্যমে ATM ও POS সেবা দিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে কিউক্যাশ এর মাইগ্রেশন করলে সবার একই ধরণের সেবা বন্ধ থাকার কথা, যেখানে লোকাল ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক কে অবগত না করে গ্রাহকদের এমন দুর্ভোগে ফেলা সত্যি বিব্রতকর।

তবে ব্যাংকগুলো বলছে ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়ায় এটিএম, কার্ড, পিওএস, কিউআর ও আন্তব্যাংক লেনদেনের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। এ ধরনের কাজের সময় সেবার ধরন ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত কোনো কোনো সেবা সাময়িক বন্ধ রাখতে হতে পারে।

ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এ সময় জরুরি লেনদেনের প্রয়োজনে গ্রাহকদের বিকল্প সেবা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সবথেকে বড় বিষয় এমন লম্বা সময় এর জন্য এতগুলো মূলধারার সেবা বন্ধ রাখা হলে সেটা কমপক্ষে একদিন আগে গ্রাহকদের জানিয়ে দেয়া উচিত, সেখানে বেশিরভাগ ব্যাংক সেবা বন্ধ করার পরে গ্রাহকদের বিষয়টি জানিয়েছে। তাহলে ITC Consultanats PLC এবং Qcash এর দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহি কোথায়? দেশের ৩০ টি ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহক যে দুর্ভোগ এবং ক্ষতির মাঝে পরছে তার দায় কি ব্যাংক না এসব সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের, সবথেকে রহস্য জনক বিষয় এত গুলো ব্যাংকের মূলধারার সেবা বন্ধ থাকবে অথচ সেটা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং লোকাল ব্যাংকগুলো আগে থেকে কেন অবগত নয়?

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআর/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!