বন্দর কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য অনুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই ৯ মাসে মোট ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৪ টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৩৯ শতাংশ বেশি। এই সময়ে বন্দরে মোট জাহাজ এসেছে ৩,২৩০টি, যা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫.৬২ শতাংশ বেশি।
বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, বর্হিনোঙরে জাহাজের অপেক্ষার সময় এখন শূন্যতে নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম জানান, ‘বন্দরের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সেবার অটোমেশনসহ নানা উদ্যোগের ফলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। অর্থবছরের বাকি সময়েও আমরা এই ধারা বজায় রাখতে চাই’।
.png)
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, ঈদের ছুটির মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন সেবার মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ চেইন সচল রাখতে বন্দর সফল হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পণ্য পরিবহনে ২১.১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অর্থনীতি স্থিতিশীল হওয়া এবং জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানি বৃদ্ধি এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রেও ২০২৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে ২০.১০ শতাংশ ও ১০.২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং অটোমেশনের ফলে কন্টেইনার জট কমেছে এবং দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হয়েছে।
টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম ও রেকর্ড জাহাজ আগমন
বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানের সময় ৪ দিন থেকে কমে এখন মাত্র আড়াই দিনে নেমেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সর্বোচ্চ ৩৯১টি জাহাজ এসেছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৬.০২ শতাংশ বেশি।
চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করেছি এবং জাহাজের গড় ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বার্থ অকুপেন্সি অত্যন্ত দক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।”