ফার্মের মুরগিতে স্বস্তি, সবজিসহ অন্যান্য বাজার চড়া
বাজারে চাল, ডাল, তেল ও সবজিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম চড়া। তবে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতেও ফার্মের মুরগির বাজারে স্বস্তি রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম এখন প্রায় তলানিতে।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ি, মিরপুর-১, কচুক্ষেত, উত্তর পীরেরবাগ ও মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা গেছে দফায় দফায় দাম বেড়েছে সবজিসহ অন্যান্য নিত্য পণ্যের দাম।
এদিকে ডিমের দাম কিছুটা বেশি হলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় তা খুব বেশি নয় বলে উদ্যোক্তাদের অভিমত। তাদের মতে, অন্যান্য পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ আমিষের চাহিদা পূরণে ফার্মের মুরগির চাপ বেড়েছে।
যাত্রাবাড়ি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির খুচরা কেজি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা। কোথাও কোথাও ১১০ টাকাও বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন পর্যায়ে গতকাল ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ৯৫ টাকা কেজি পর্যন্ত, পাইকারিতে ১০৫ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সোনালি জাতের মুরগি পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭৫ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের মুরগি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় পিস হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো এখনো আগের মতো চালু হয়নি, বিয়েশাদিসহ সামাজিক অনুষ্ঠানাদিও খুব বেশি হচ্ছে না। ফলে ফার্মের মুরগির চাহিদা আগের মতো নেই। তবে সাধারণ ভোক্তারা কয়েক মাস আগের তুলনায় ব্রয়লার, সোনালিসহ ফার্মের মুরগি কিনছে বেশি।
এদিকে বাজারে প্রতিডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা, সোনালি মুরগির ডিম ১৪০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে।
কচুক্ষেত বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিকেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, উস্তা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা, শসা (দেশি) ৮০ টাকা, গাজর (আমদানি) ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মানভেদে ঝিঙা-ধুন্দল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙা ৫০ টাকা, কাকরোল আকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন আকারভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কচুর ছড়া ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, আলু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, কাঁচকলা প্রতিহালি ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতিপিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
অপরদিকে রাজধানীর বাজারে দাম বেড়ে বর্তমানে খুচরায় প্রতিকেজি আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা, পায়জাম চাল ৫০ টাকা, মিনিকেট চাল ৫৯ টাকা, জিরা মিনিকেট চাল ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা, নাজিরশাইল চাল ৫৬ টাকা ও পোলাও’র চাল (খোলা) বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা ও প্যাকে করা চাল বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা কেজিদরে।
অথচ এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি আটাশ চাল বিক্রি হয়েছিল ৫০ টাকা, পায়জাম চাল ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, মিনিকেট চাল ৫৭ টাকা, জিরা মিনিকেট চাল ৫৩ থেকে ৫৪ টাকা, নাজিরশাইল চাল ৫৪ টাকা ও পোলাও’র চাল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজিদরে।
এদিকে চালের দাম বাড়ার জন্য মিলারদের দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। আর ক্রেতারা বলছেন, বাজারে একটা পণ্যের দাম বাড়লে বিক্রেতারা অন্যটিরও দাম বাড়িয়ে দেন।