লোহাগাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পায়েল সেতু, আতঙ্কে মানুষ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিণা পুরান পাড়া এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পায়েল সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ৭ থেকে ৮ গ্রামের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি বেহাল অবস্থায় থাকলেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আধুনগর পুরান পাড়া সড়কের সাতগড়ের ছড়া তিনখালের মুখ এলাকায় সেতুটি অবস্থিত। ১৯৯৯ সালে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর গোড়ার অংশও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল ও সাইকেল চলাচল করে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে এই সেতু ব্যবহার করতে হয়। বিপরীত দিক থেকে যানবাহন এলে পাশ কাটাতে গিয়ে প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগী বা লাশ নিয়ে এলেও সেতুর পরবর্তী অংশে যাতায়াতে সমস্যা হয়। রাতে অন্ধকারে কিংবা অসাবধানতাবশত চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেতুটি পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রায় সাত মাস ধরে বিভিন্ন লোকজন এসে সেতুটির ছবি তুলে দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। বড় কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কামাল উদ্দিন, শমশুল ইসলাম ও আমির হোসেন বলেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ শত শত মানুষ এই সেতু দিয়ে চলাচল করেন। সেতুটির গোড়াও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। মেরামত কিংবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্কুলশিক্ষার্থী মোহাম্মদ রিশতাক, আলভী, আবদুর রহমান ও মিসকাত জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার সময় তাদের এই সেতু ব্যবহার করতে হয়। সেতুটি দিয়ে চলাচলের সময় তারা আতঙ্কে থাকে। জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ বেলাল বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শ যানবাহন ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হওয়ার সময় চালক ও যাত্রীদের আতঙ্কে থাকতে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, সেতুটি অনেক পুরোনো এবং বর্তমানে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি সংস্কার করা হলেও দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া যাবে না। তাই নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। প্রস্তাব অনুমোদন পেলে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।