ঢাকা,  সোমবার   ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

৯৯৯-এ ফোন দিয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার খবর দিলেন স্বামী, এরপর...

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৪৮, ১২ অক্টোবর ২০২৬
৯৯৯-এ ফোন দিয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার খবর দিলেন স্বামী, এরপর...
গাজীপুরের শ্রীপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাজীপুরের শ্রীপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সীমা রানী দাসকে (২৫) হত্যার অভিযোগে তার স্বামী উদ্ভব দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে পারিবারিক কলহের জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলাকেটে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন উদ্ভব। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বড়চালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সীমা ও উদ্ভবের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার রাতেও তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সীমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে উদ্ভব নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমার মরদেহ উদ্ধার করে এবং মরদেহের পাশ থেকে উদ্ভবকে আটক করে। স্বজনদের দাবি, পুলিশ পৌঁছানোর সময় উদ্ভব মরদেহের পাশে বসে সিগারেট টানছিলেন।

উদ্ভবের স্বজন পবিত্র চন্দ্র দাস বলেন, উদ্ভব নেশাগ্রস্ত থাকতেন বলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অভিযোগ ছিল। তিনি প্রায়ই বাবার কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না পেলে ঝগড়া করতেন। তবে মাঝেমধ্যে বাবার সঙ্গে মাছ ধরার কাজেও সহযোগিতা করতেন।

উদ্ভবের ভগ্নিপতি শুবল চন্দ্র দাস বলেন, রাত পৌনে ১২টার দিকে ফোনে স্ত্রীকে হত্যার খবর পান তিনি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে উদ্ভবকে আটক করে নিয়ে যেতে দেখেন। ঘটনার সময় বাড়ির অন্য সদস্যরা পাশের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানান তিনি।

দীঘির চালা স্কুলের সহকারী শিক্ষক শ্রী রাণী দাসের দাবি, উদ্ভবের আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে প্রথম স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। পরে প্রথম স্ত্রী চলে গেলে ভৈরবের কুলিয়ারচর এলাকা থেকে সীমাকে পছন্দ করে বিয়ে করেন উদ্ভব। প্রায় ছয় মাস আগে সীমাকে মারধর করে তার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/গাজীপুর/এমকে
ট্যাগ: গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!